দেশে উচ্চফলনশীল খাটো জাতের ভিয়েতনামী নারকেল চাষ সম্প্রসারণের সরকারি উদ্যোগের কয়েক বছর পর মাঠে মিশ্র চিত্র দেখা যাচ্ছে। যেসব জমিতে বৈজ্ঞানিক পরিচর্যা ও পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করা হয়েছে সেখানে ভালো ফলন মিলছে, কিন্তু গতানুগতিকভাবে চারা লাগিয়ে ফেলে রাখা কৃষকেরা আশানুরূপ ফল না পেয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের বছরব্যাপী ফল উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় কয়েক বছর আগে ভিয়েতনাম থেকে সিয়াম গ্রিন ও সিয়াম ব্লু নামের দুটি খাটো জাতের নারকেল চারা এনে হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় বিতরণ করা হয়। তিন থেকে সাড়ে তিন বছরে ফলন, নিচু গাছে সহজে ফল পাড়া এবং মিষ্টি ও বেশি পানির ডাবের কারণে এই জাত নিয়ে কৃষকদের আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।
ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন চন্দ্রিমা উদ্যানে পরীক্ষামূলকভাবে লাগানো সিয়াম গ্রিন, সিয়াম ব্লু ও ভারত থেকে আনা ডিজি হাইব্রিড জাতের গাছে ভালো ফলন দেখা গেছে। সাড়ে তিন বছর আগে লাগানো প্রতিটি গাছে গড়ে ৫০ থেকে ৬০টি ডাব এসেছে; একটি গাছে সর্বোচ্চ ৫৮টি গোনা হয়েছে।
ল্যাবরেটরি ও মাঠপর্যায়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই জাতের একেকটি ডাবের ওজন প্রায় দেড় থেকে পৌনে দুই কেজি। ভিয়েতনামে একটি ডাবে ২৫০ থেকে ৩৫০ মিলিলিটার পানি পাওয়া যায়, অথচ বাংলাদেশের মাটিতে প্রতিটি ডাব থেকে ৫৫০ থেকে ৬৫০ মিলিলিটার পানি মিলছে। ডাবের পানির মিষ্টতার মাত্রা (ব্রিক্স) স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।
অর্থাৎ জাতটির ফলনক্ষমতা প্রমাণিত, তবে তা নির্ভর করছে পরিচর্যার ওপর। প্রতিবেদনের মূল বার্তা হলো, সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত সেচ ছাড়া শুধু চারা রোপণ করে এই জাত থেকে লাভ আশা করা যায় না।
ছবি: Forest & Kim Starr / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: দিনাজপুর টিভি





মন্তব্য
(০)