সবজির বৈচিত্র্য দ্রুত কমছে, অথচ তা প্রায় চোখেই পড়ছে না। পিএনএএস (PNAS) সাময়িকীতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে গবেষকেরা বলছেন, জমির ব্যবহার বদল, একই ধরনের বাজার আর দেশি ও বুনো প্রজাতি হারিয়ে যাওয়ায় গত এক শতকে সবজির জীববৈচিত্র্য অনেক কমেছে; ৭৯টি প্রধান সবজির বুনো আত্মীয় প্রজাতির প্রায় ২৪ শতাংশ এখন বিলুপ্তির ঝুঁকিতে। খবরটি দিয়েছে মোঙ্গাবে ইন্ডিয়া।
লেখকেরা ১,৪৮২টি সবজির একটি বৈশ্বিক তালিকা তৈরি করেছেন, তবে তাঁদের মতে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি, কারণ অনেক স্থানীয় ও বুনো সবজি প্রচলিত তথ্যসূত্রে নেই। প্রধান লেখক, পেরুর লিমায় আন্তর্জাতিক আলু কেন্দ্রের জিনব্যাংক প্রধান মার্টেন ফন জোনেভেল্ড বলেন, অনেক সবজির প্রজাতি জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো জিনব্যাংকে সংরক্ষিত নেই। ওয়ার্ল্ড ভেজিটেবল সেন্টারের জিনব্যাংকে ৩৩০টির বেশি প্রজাতির ৬৫ হাজারের বেশি নমুনা আছে, আর ভারতের জাতীয় উদ্ভিদ জিনসম্পদ ব্যুরোতে আছে সবজির ৩০,৭০০টির বেশি নমুনা।
বেঙ্গালুরুর এক ছোট খামারে হরিয়ালি সিডসের প্রতিষ্ঠাতা প্রভাকর রাও এখনো লবঙ্গ শিম আর ইয়েরেঙ্গেরে সাদা লম্বা বেগুনের মতো সবজির বীজ রাখেন; একসময় ‘ভাঙ্গি বাথ’ বা বেগুন-ভাত রান্নায় শুধু এই বেগুনই ব্যবহার হতো। ২০১১ সাল থেকে তিনি কয়েক শ দেশি জাতের বীজ রক্ষা করেছেন, যাকে তিনি বলছেন কেবল শুরু। তাঁর আক্ষেপ, এই হারিয়ে যাওয়া ঘটছে সবার অগোচরে।
নিবন্ধটি সবজির বৈচিত্র্যকে পুষ্টি ও জলবায়ু সহনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করেছে। অনেক সবজি দুইভাবে খাওয়া হয়, যেমন মিষ্টি আলু ও কচুর কন্দ ও পাতা দুটোই; আর ভারতও যুক্ত থাকা ক্রপ ট্রাস্টের অবহেলিত ফসলের তালিকায় আছে মিষ্টি আলু, ছোট জাতের মেটে আলু ও কুমড়া। খাওয়াও কম: ২০২০ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, ভারতে মাথাপিছু দৈনিক ফল ও সবজি খাওয়া গড়ে প্রায় ২৩০ গ্রাম, যেখানে সুপারিশ ৪০০ গ্রাম।
বাজারও বৈচিত্র্যের বিপক্ষে। এডিবল ইস্যুজ সংগঠনের রাঁধুনি ও খাদ্য গবেষক এলিজাবেথ ইয়র্ক বলেন, ক্রেতারা প্রতিটি সবজির একটাই চেহারা আশা করেন; বেঙ্গালুরুর স্পাডনিক ফার্মসের সঙ্গে তাঁর ‘রুটিং ফর টিউবার্স’ উদ্যোগ কন্দ ফসল নিয়ে উৎসব ও রান্নার কর্মশালা করে, কারণ অনেকে এগুলো রাঁধতে জানেন না। রাও বলেন, ছোট চাষির কাছে সবজি চাষ ভাগ্যের খেলা, দাম প্রায়ই খরচ তোলে না; ২০২৫ সালের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সবজি উৎপাদক ভারত শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে হেক্টরপ্রতি উৎপাদনে সবার পেছনে।
ক্রপ ট্রাস্টের বৈশ্বিক সংরক্ষণ প্রধান ও নিবন্ধের সহলেখক কলিন খুরি বলেন, সবজি শুধু বড় মাঠে নয়, ধাপচাষের জমি, বাড়ির আঙিনা ও ছাদেও হয়, প্রায়ই নারী, বয়স্ক ও শিশুদের হাতে; তাই এসব সবজি বাজারে সহজলভ্য, দৃশ্যমান ও সাশ্রয়ী করতে হবে। স্কুলের খাবার একটি পথ: ২০২২ সাল থেকে নর্থ ইস্ট সোসাইটি ফর অ্যাগ্রোইকোলজি সাপোর্ট (নেসফাস) মেঘালয়ের ২৬টি স্কুলে লাল শাঁসের মিষ্টি আলু, কচুর ডাঁটা ও থানকুনির মতো স্থানীয় সবজি দিয়ে খাবারের কর্মসূচি চালাচ্ছে।
প্রতিবেদন: প্রিয়াঙ্কা শংকর (Priyanka Shankar), মোঙ্গাবে ইন্ডিয়া।
সূত্র: Mongabay India




মন্তব্য
(০)