যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় ডিজেল রেশনিং হতে পারে এবং দাম লিটারে ৪ ডলার ছাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন একজন শীর্ষ জ্বালানি বিশ্লেষক। ডিজেলনির্ভর কৃষি ও খনি খাতের জন্য এটি গুরুতর ঝুঁকি বলে জানিয়েছে এবিসি।
এমএসটি মার্কির জ্বালানি গবেষণা প্রধান সল কাভোনিকের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্ট্রেলিয়ার ঝুঁকির দিক থেকে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানান, তিনি কিছু রিপাবলিকান রাজনীতিকের ডিজেল রপ্তানি বন্ধের দাবি সমর্থন করেন; যুক্তরাষ্ট্র দিনে প্রায় ১৩ লাখ ব্যারেল, অর্থাৎ শোধন সক্ষমতার এক-চতুর্থাংশ ডিজেল রপ্তানি করে, আর দেশটিতে দাম গ্যালনে রেকর্ড ৬.৫০ ডলার ছাড়িয়েছে।
কাভোনিক বলেন, কঠোর নিষেধাজ্ঞা হলে কয়েক সপ্তাহেই রেশনিং আসতে পারে এবং দাম ৫০ শতাংশ বাড়তে পারে। অস্ট্রেলিয়া সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল না আনলেও বৈশ্বিক বাজারের ধাক্কা এড়াতে পারবে না; তাঁর ভাষায়, মোট পরিমাণের হিসাবে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিজেল আমদানিকারক—বিশ্বের জ্বালানি চাহিদার ১ শতাংশ হলেও সমুদ্রপথে আমদানি হওয়া ডিজেলের ১০ শতাংশ তার।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বহু শোধনাগার বন্ধ, রাশিয়া ও চীনও পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করেছে—ফলে ঘাটতি পূরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। শোধনাগারগুলোর ডিজেলে মুনাফার ব্যবধান বেড়েছে, যা অস্ট্রেলীয় কৃষকদের এমনিতেই কম মুনাফাকে আরও চাপে ফেলছে।
অস্ট্রেলিয়া সরকার বিদেশি অংশীদারদের কাছ থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে; নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনও এ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিবেদনটি করেছেন অ্যালিসন ব্র্যানলি।
ছবি: Bob Nichols, USDA ARS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: এবিসি রুরাল





মন্তব্য
(০)