আত্মবিশ্বাসের অভাব, সীমিত প্রশিক্ষণ আর সুফল নিয়ে অনিশ্চয়তা খামার ব্যবসাগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) থেকে পুরো সুবিধা নিতে বাধা দিচ্ছে বলে মনে করছেন যুক্তরাজ্যের কৃষি পরামর্শকেরা। ফার্মার্স উইকলির উইমেন ইন এগ্রিকালচার নেটওয়ার্কের এক ওয়েবিনারে তাঁরা এ কথা বলেন।
সেরেস রুরালের কৃষিবিদ ও খামার পরামর্শক লুইস পেন (Louise Penn) বলেন, বড় বাধা হলো এআই এখনই কী কী করতে পারে, অনেক কৃষক তা জানেনই না। একবার এক কৃষককে তিনি পরিবেশ প্রকল্পের শর্তগুলো চ্যাটজিপিটি দিয়ে সংক্ষেপ করে নিতে শিখিয়েছিলেন, তাঁর তৈরি করে দেওয়ার অপেক্ষায় না থেকে। দুই সপ্তাহ পর ফিরে গিয়ে দেখেন, সেই কৃষক আরও কয়েকটি অ্যাপ নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেছেন। তাঁর কথায়, "এই দক্ষতা কোনোভাবে কৃষকদের হাতে পৌঁছে দিতে হবে।"
পেনের মতে, এআই দিয়ে কাজের তালিকা সাজানো, ইমেইলের খসড়া লেখা আর জটিল তথ্য সহজ করা যায়, এতে কাগজপত্রের কাজে সময় কমে। তবে কাজ দ্রুত হলেই জীবন ভালো হবে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি, কারণ মানুষ তখন আরও বেশি কাজ নেয়। সব কিছুতে এআইয়ের ওপর ভরসা করে নিজের বিচারবুদ্ধি হারানোর বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন। তিনি বলেন, বড় কৃষি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্তে এআইয়ে বিনিয়োগ শুরু করেছে, কিন্তু ছোট খামারের প্রায়ই সময়, টাকা বা দক্ষতা থাকে না।
ফোর কুমরির (Four Cymru) ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যামেলিয়া স্টিভেন্স (Amelia Stevens) বলেন, নিজের যোগ্যতা প্রমাণের বাড়তি চাপ অনুভব করায় নারীদের সামনে আরেকটি বাধা থাকে; জানা কাজে এআই ব্যবহার করলে মনে হয় যেন ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি এক গবেষণার উল্লেখ করেন, যাতে দেখা গেছে কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে নারীরা ঐতিহাসিকভাবে পুরুষদের চেয়ে বেশি দ্বিধায় থেকেছেন।
নতুনদের জন্য স্টিভেন্সের পরামর্শ, একসঙ্গে অনেক প্ল্যাটফর্ম শেখার চেষ্টা না করে সময়খেকো একটি কাজ বেছে নিন। তাঁর ভাষায়, "শুরুতে একটি একঘেয়ে কাজেই মন দিন, আর এআইকে ভাবুন দ্রুতগতির এক সহকারী হিসেবে, যে ভুলও করতে পারে।" তথ্য নিয়েও সাবধান থাকতে বলেন তিনি: গোপনীয় বা খামারের বাইরে যাওয়া উচিত নয় এমন কিছুই তিনি এআইয়ে দেন না।
প্রতিবেদনটি ফার্মার্স উইকলির উইমেন ইন এগ্রিকালচার নেটওয়ার্কের ওয়েবিনারের ভিত্তিতে লেখা।
সূত্র: Farmers Weekly




মন্তব্য
(০)