মন ভালো রাখতে সব সময় দীর্ঘ মেডিটেশন বা সময়সাপেক্ষ যত্নের দরকার নেই; ছোট ও সহজ কিছু কাজও মুড, মানসিক সুস্থতা ও শক্তি বাড়াতে পারে, এমন প্রমাণ বাড়ছে। ‘মাইক্রোপ্র্যাকটিস’ বইয়ের লেখক এলি সাসম্যানের মতে, এর কিছু অনুশীলনে লাগে মাত্র ৩০ সেকেন্ড। বিবিসির সিনিয়র স্বাস্থ্য সংবাদদাতা মেলিসা হোগেনবুম এমন কয়েকটি অনুশীলন পরখ করেছেন।
প্রথমটি লাফটার ইয়োগা: কৌতুক ছাড়াই ইচ্ছা করে হাসা। নেদারল্যান্ডসের ডেলফট ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষক ন্যাটালি ভ্যান ডের ওয়াল বলেন, কিছুক্ষণ পর কৃত্রিম হাসি অনেক সময় সত্যিকারের হাসিতে পরিণত হয়। তাঁর মেটা-অ্যানালাইসিসে দেখা গেছে, কৌতুক ছাড়া হাসি বিষণ্ণতা ও উদ্বেগ কমাতে কৌতুকনির্ভর হাসির চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ কার্যকর। পদ্ধতি: পেটে হাত রেখে তিনবার গভীর শ্বাস, তারপর ‘হি হি হি, হা হা হা’ বলে ধীরে হাসির শব্দ বাড়ানো।
দ্বিতীয়টি ‘মাইক্রো ইয়োগা’, যা দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে বসে থাকা মানুষের জন্য বিশেষ কাজের। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১৫ মিনিট পরপর মাত্র ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড স্ট্রেচ করলে কাজের দক্ষতা প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়ে। পিঠের পেছনে দুই হাতের আঙুল জড়িয়ে শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে হাত নিচে প্রসারিত করে বুক আলতো তুলুন, শ্বাস ছাড়ার সঙ্গে শিথিল হোন। নতুন ব্যায়াম নিয়ে সন্দেহ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
তৃতীয়টি তিনটি ধীর শ্বাস। ইতালির ইউনিভার্সিটি অব নেপলস ফেদেরিকো টু-এর গবেষক অমিত কুমারের নেতৃত্বে এক গবেষণায় দেখা গেছে, তিনটি ধীর ও দীর্ঘ শ্বাস মস্তিষ্কের আলফা ও থিটা তরঙ্গ বাড়ায়, যা শান্ত হতে ও মনোযোগ দিতে সাহায্য করে। প্রায় ১০ সেকেন্ড ধরে তিনটি শ্বাস নিন, শ্বাস ছাড়ার সময় নেওয়ার চেয়ে দীর্ঘ রাখুন।
চতুর্থটি ২০ সেকেন্ডের ‘নিজেকে শান্ত করার স্পর্শ’: বুক বা বাহুর ওপর হাত রেখে নিজের প্রতি সদয় চিন্তা করা। সাসম্যান ও সহকর্মীদের গবেষণায় এতে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ভ্যান ডের ওয়ালের পরামর্শ, সব পদ্ধতি চেষ্টা করার দরকার নেই; যেটিতে স্বস্তি পান, সেটিই করুন।
ছবি: Nauravainenanu / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বিবিসি বাংলা




মন্তব্য
(০)