কানাডার আলবার্টার এডমন্টনে ম্যাকইউয়ান বিশ্ববিদ্যালয় (MacEwan University)-এর গবেষকেরা একটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্ম বানিয়েছেন, যা বিশ্বের নানা প্রান্তের কৃষক ও মাঠকর্মীদের একই দলের আগে তৈরি কম খরচের মাটি পরীক্ষার যন্ত্র ব্যবহার শেখাবে—যেখানে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া কঠিন, সেখানে নির্ভুল কৃষিকে বাস্তবসম্মত করার একটি পদক্ষেপ।
মূল যন্ত্র অ্যাগ্রিলো (Agrilo) ২০২৫ সালে প্রথম আনা হয়। এটি রঙভিত্তিক (কলোরিমেট্রিক) মাটি পরীক্ষা: কৃষক অল্প মাটির নমুনা আগে থেকে ভরা দ্রবণে মেশান, কাগজ বা ভিনাইলের সেন্সর স্ট্রিপে ফোঁটা দেন এবং স্মার্টফোনে ছবি তোলেন; একটি অ্যাপ রঙের বিন্যাস বিশ্লেষণ করে নাইট্রেট, ফসফেট, পটাশিয়াম, পিএইচ, সালফার, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ক্যালসিয়াম, বোরন, লোহা, জৈব পদার্থ ও ক্যাটায়ন বিনিময় ক্ষমতা জানায়। প্রতিটি সেন্সরের দাম প্রায় ১০ ডলার, ফল মেলে মিনিটের মধ্যে—বাণিজ্যিক পরীক্ষাগারে যেখানে দিন লাগে এবং প্রতি পরীক্ষায় খরচ প্রায়ই শত শত ডলার। নির্মাতারা বলছেন, অ্যাগ্রিলোর পাঠ প্রচলিত পরীক্ষাগারের ফলের সঙ্গে যাচাই করা হয়েছে।
নতুন কাজটি অন্য এক সমস্যার সমাধান: ভিন্ন ভাষা, সাক্ষরতা ও চাষের অবস্থার নানা অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক কৃষক ও সম্প্রসারণকর্মীকে সাত ধাপের পরীক্ষা-নিয়মাবলি সঠিক ও ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করানো। অ্যাগ্রিলো ভিআর মেটা কোয়েস্ট হেডসেটে চলে এবং বাস্তব টেবিলে তরল মেশানো ও রঙ বদলানো কেমন দেখায়, তার সিমুলেশনে মাটি প্রস্তুতি, বিকারক মেশানো, সময় গোনা ও রঙ পড়া ধাপে ধাপে শেখায়। ব্যবহারকারীর সম্মতিতে এটি ক্লাউডে নথিভুক্ত করে শিক্ষার্থীরা কোথায় থামছেন, কোন ধাপ আবার করছেন বা সাহায্য চাইছেন—যাতে নিয়মাবলির কোন অংশ বিভ্রান্তি তৈরি করছে, তা দেখে নির্দেশনা শোধরানো যায়।
প্রকল্পের নেতৃত্বে ম্যাকইউয়ানের কম্পিউটার বিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমোরসি (Mohammed Elmorsy) ও রসায়নের অধ্যাপক স্যামুয়েল মুগো (Samuel Mugo)। দুজনই অ্যাগ্রিলো বাণিজ্যিকীকরণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পিন-অফ কোম্পানি পিমাসেন্স ইনকরপোরেটেডের সহপ্রতিষ্ঠাতা—আর্থিক স্বার্থের এই সম্পর্ক তাঁরা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। কোস্টারিকার তেকনোলোহিকো দে কোস্টা রিকার সান কার্লোস ক্যাম্পাসের সহযোগী গবেষক আবেল মেন্দেস পোরাস (Abel Mendez Porras) কানাডার বাইরে প্ল্যাটফর্মটি পরীক্ষায় যুক্ত। অর্থায়ন এসেছে মাইট্যাকস গ্লোবাল লিংক, কর্মসংযুক্ত শিক্ষার প্ল্যাটফর্ম রিপেন এবং আলবার্টা ইনোভেটস সামার রিসার্চ স্টুডেন্টশিপ থেকে।
একটি পাইলট সাইটের বদলে দলটি ইচ্ছাকৃতভাবে চারটি একেবারে ভিন্ন জায়গায় অ্যাগ্রিলো ভিআর পরীক্ষা করেছে: আলবার্টার মেডিসিন হ্যাট, দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশ, কোস্টারিকার সান কার্লোস ও কেনিয়ার নাইরোবি—একটি মডিউল ভিন্ন মাতৃভাষা, শিক্ষা এবং ইন্টারনেট বা যন্ত্রের সুবিধার ব্যবহারকারীদের জন্য কাজ করে কি না, কেবল সচ্ছল কানাডীয় ব্যবহারকারীর জন্য নয়, তা যাচাই করতে। এক গবেষক জানান, সশরীরে কর্মশালা চালাতে কারও ভ্রমণ ছাড়াই একই প্রশিক্ষণ এখন একসঙ্গে একাধিক দেশে দেওয়া যাচ্ছে।
ঘোষণার সঙ্গে ভিআর পরীক্ষার নির্ভুলতা বা সমাপ্তির হারের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়নি; তাই একে নিয়ন্ত্রিত গবেষণা নয়, একটি নতুন প্রশিক্ষণ হাতিয়ার ও তার প্রাথমিক বহুদেশীয় প্রয়োগের প্রতিবেদন হিসেবে পড়া উচিত। অন্যদিকে অ্যাগ্রিলো যন্ত্রের পুষ্টিমানের পাঠ একই দলের আগের প্রকাশিত কাজে পরীক্ষাগারের ফলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।
ছবি: The U.S. Army / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)