চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের উত্তর শ্রীমাই গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা আবদুল জব্বার (২৮) এবার বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৪০ শতক জমিতে ‘সূর্যডিম’ জাতের হলুদ রঙের ছোট তরমুজ চাষ করেছেন। গত রোববার থেকে তিনি খেতের তরমুজ কেজিপ্রতি ১২০ টাকা দরে বিক্রি শুরু করেছেন।
জব্বার জানান, ২৬ জুলাই বীজ বোনার প্রায় ১ মাস ২৫ দিন পর তরমুজ বিক্রির উপযোগী হয়েছে। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা, আর তাঁর আশা প্রায় তিন লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হবে। গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র চার শতক জমিতে এই জাত চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ায় এবার জমির পরিমাণ বাড়িয়েছেন।
বর্ষায় মাটিতে পানি জমে তরমুজ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই জব্বার ইউ আকৃতির মাচা বানিয়ে গাছ তুলে দিয়েছেন এবং ফলগুলো নেটে ঝুলিয়ে রেখেছেন। তাঁর ভাষায়, মাচায় ঝুলিয়ে চাষ করায় সেই ঝুঁকি কমে এবং গাছে ফলও বেশি ধরে। চারা তৈরি করেছেন ট্রেতে বীজতলা করে, পরে জমিতে রোপণ করেছেন।
উত্তরাঞ্চল থেকে আসা সাদা রঙের হাইব্রিড তরমুজ পটিয়ায় সাধারণত কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয় বলে জানান জব্বার। সূর্যডিমের দাম ন্যূনতম ১২০ টাকা। তাঁর বর্ণনায় এ জাতের বীজ ছোট ও সংখ্যায় কম, ভেতরটা টকটকে লাল। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তপন কুমার রায় জানান, সূর্যডিমের একেকটি তরমুজ সাধারণত আড়াই থেকে চার কেজি হয়।
ইউটিউবে কৃষিবিষয়ক অনুষ্ঠান দেখে এ জাতের কথা জানতে পারেন জব্বার, পরে নিজেই খোঁজ নিয়ে বীজ সংগ্রহ করেন। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে সাধারণত শীতে তরমুজ হয়, ‘কিন্তু সূর্যডিম জাতটি বর্ষা মৌসুমেও চাষ করা যায়।’ উপজেলা কৃষি বিভাগ চলতি মৌসুমে তাঁকে বীজ ও মালচিং পেপার দিয়ে সহায়তা করেছে বলে জানান উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দীপন চৌধুরী।
প্রায় ছয় একরের সবজিখেতে জব্বার গ্রাফটিং করা চারায় ‘বাহুবলী’ জাতের টমেটো, সঙ্গে পেঁপে, শসা, কাঁকরোল, করলা ও শিম চাষ করছেন; পাশের পাহাড়ে আরও প্রায় ৬০০ শতকে আদা। তাঁর দাবি, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের বদলে হলুদ কার্ড, ফেরোমন ফাঁদ ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করেন। বছরে খরচ প্রায় ১৫ লাখ টাকা, সবজি বিক্রি প্রায় ২০ লাখ টাকা।
১৬ বছর বয়সে দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে সাহায্য করতে গিয়ে কৃষিতে আসেন জব্বার; পরে ব্যাংক ও বড় ভাইয়ের ঋণে চাষ বাড়ান। দীপন চৌধুরী আশা করছেন, তাঁর খেত দেখে এলাকার অন্য কৃষকেরাও নতুন জাত চাষে আগ্রহী হবেন। প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর পটিয়া প্রতিনিধির।
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)