কোরআনের ১১১ নম্বর সুরা আল-মাসাদ, সাধারণভাবে যা সুরা লাহাব নামে পরিচিত, পাঁচ আয়াতের ছোট একটি সুরা। চ্যানেল আই অনলাইনের ধর্ম পাতায় ফারজিয়া হোসেন লিখেছেন, এতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চাচা আবু লাহাব ও তাঁর স্ত্রীর পরিণতি সম্পর্কে সতর্কবার্তা এসেছে।
মক্কায় রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত শুরু করলে ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হয়েও আবু লাহাব তাঁর বিরোধিতা করেন। সেই প্রেক্ষাপটে সুরাটি নাজিল হয়। শুরুতে বলা হয়েছে, আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক; তার সম্পদ ও উপার্জন কোনো কাজে আসবে না (সুরা আল-মাসাদ, ১১১:১-২)।
লেখকের ব্যাখ্যা, এই আয়াতগুলো স্পষ্ট করে যে পার্থিব সম্পদ, সামাজিক অবস্থান বা পারিবারিক পরিচয় মানুষকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি থেকে রক্ষা করতে পারে না। নবীজির চাচা হওয়াও আবু লাহাবের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করেনি; ইসলামের দৃষ্টিতে মর্যাদা নির্ভর করে বিশ্বাস, কাজ ও নৈতিক অবস্থানের ওপর।
তৃতীয় আয়াতে বলা হয়েছে, সে শিগগিরই লেলিহান আগুনে প্রবেশ করবে। চতুর্থ আয়াতে তার স্ত্রীকে 'কাঠ বহনকারিণী' বলা হয়েছে, আর পঞ্চম আয়াতে বলা হয়েছে তার গলায় থাকবে পাকানো রশি (১১১:৩-৫)। তাফসিরকারদের ব্যাখ্যায় 'কাঠ বহনকারিণী' কথাটির সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিরোধিতায় তার ভূমিকার সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।
লেখকের মতে, সুরাটির শিক্ষা হলো সম্পদ ও ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়; অর্থ, পরিচয় বা অবস্থান কাউকে অন্যায় করার অধিকার দেয় না, আর সত্য জেনেও তা প্রত্যাখ্যান করা গুরুতর বিষয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষ তার সম্পদ ও অবস্থান কীভাবে ব্যবহার করছে এবং সত্যের সামনে তার অবস্থান কী।
ছবি: Erik Albers / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: চ্যানেল আই অনলাইন





মন্তব্য
(০)