সাবান দিয়ে হাত ধোয়া সংক্রমণ ঠেকানোর সবচেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী উপায়গুলোর একটি, কিন্তু সুপারবাগ বা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স শুধু হাত ধুয়ে মোকাবিলা করা যায় না, প্রথম আলোয় এক মতামত নিবন্ধে এ কথা লিখেছেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ডার্বির গবেষক মো. মামুন-উর-রশিদ। বাংলাদেশকে মূল ক্ষেত্র ধরে সুইডেন, ডেনমার্ক, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করে তিনি নীতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে গবেষণা করেছেন।
লেখক মনে করিয়ে দেন, অ্যান্টিবায়োটিক খেতে খেতে মানুষের শরীর প্রতিরোধী হয় না, প্রতিরোধী হয় ব্যাকটেরিয়া। জ্বর-সর্দিতে রোগ নির্ণয় ছাড়াই ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়ার অভ্যাস এ সমস্যা বাড়ায়, কারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি লেখেন, ২০২২ সালে বাংলাদেশে প্রথম পছন্দের উপযোগী অ্যান্টিবায়োটিক ছিল মোট ব্যবহারের মাত্র ২৯ শতাংশ, যেখানে লক্ষ্য অন্তত ৬০ শতাংশ; তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন একাই ছিল ৩৩.৩ শতাংশ।
খাদ্যব্যবস্থাও এ চক্রের অংশ: পোলট্রি, গবাদিপশু ও মাছ উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের অনুপযুক্ত ব্যবহার প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া বাছাইয়ের সুযোগ তৈরি করে, যা খাদ্য, পানি, বর্জ্য, মাটি ও পরিবেশের পথে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। তাই মানুষ, প্রাণী, খাদ্য, কৃষি ও পরিবেশকে এক পরিকল্পনায় আনার ওয়ান হেলথ পদ্ধতির কথা বলেন তিনি, যা জাতীয় কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা ২০২৩-২০২৮-এও গুরুত্ব পেয়েছে।
২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় ৪০টি নীতিগত নথি ও ৫১টি গবেষণা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মানুষ ও প্রাণিস্বাস্থ্যে কাজ বেশি হলেও পরিবেশ খাত পিছিয়ে। লেখকের মতে, ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধের নিয়ম থাকলেই হবে না; নজরদারি, প্রশিক্ষিত জনবল, হাসপাতালে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষাগারের সুবিধা এবং খাতগুলোর মধ্যে জবাবদিহি দরকার।
এটি লেখকের নিজস্ব মতামত; সারাংশ দি এগ্রো নিউজের।
ছবি: Sage Ross / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)