সুন্দরবনের পশুর নদীর তীরে ২০১৩ সালের ২৬ জানুয়ারি বিকেলে দূর থেকে যাকে মরা গাছের গুঁড়ি মনে হয়েছিল, বাসায় ফিরে ছবি বড় করতেই দেখা গেল সেটি রোদ পোহানো এক লোনাপানির কুমির। দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত লেখায় পাখি ও বন্যপ্রাণী প্রজনন ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ড. আ ন ম আমিনুর রহমান এভাবেই প্রাণীটির সঙ্গে প্রথম দেখার কথা লিখেছেন।
এরপর হাড়বাড়িয়া খালপাড়, আন্ধারমানিক নদী, দুধমুখী ও সুপতির মাঝামাঝি নদীর পাড় এবং সুপতি-কচিখালির মাঝে কয়েক দফা দেখা মিলেছে কুমিরটির। একবার ছোট লঞ্চ থেকে ছবি তুলতে তুলতে কাছে চলে আসায় কাদাপাড় থেকে ঝপাৎ করে পানিতে নেমে ডুব দেয় সে। লেখক সর্বশেষ সুন্দরবনে প্রাণীটিকে দেখেছেন ২০২৩ সালের মার্চে।
লোনাপানির কুমির (Crocodylus porosus) দেশের এক বিরল ও বিপন্ন সরীসৃপ। বাংলাদেশে একমাত্র সুন্দরবনেই এর দেখা মেলে; এ ছাড়া ভারত, শ্রীলঙ্কা, চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, অস্ট্রেলিয়া ও মাইক্রোনেশিয়ায় পাওয়া যায়।
জীবিত সরীসৃপের মধ্যে এটিই বৃহত্তম। পুরুষ সাধারণত ৪.৩ থেকে ৫.২ মিটার লম্বা এবং ৪০০ থেকে ১,০০০ কেজি ওজনের হয়, সর্বোচ্চ ৬ থেকে ৭ মিটার ও ২,০০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। স্ত্রী অনেক ছোট, ২.৪ থেকে ৩ মিটার ও কমবেশি ১০০ কেজি। সদ্যফোটা বাচ্চা মাত্র ২৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার লম্বা, ওজন ৭০ গ্রাম।
উপকূলের নদী, মোহনা ও বাদাবন এদের আবাস, কখনো মিঠাপানিতেও দেখা যায়। প্রতিটি কুমিরের নিজস্ব বিচরণ এলাকা থাকে; সেখানে পাওয়া মাছ, কাঁকড়া, সরীসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ী, এমনকি মানুষও এদের খাদ্য হতে পারে।
দেশে এদের প্রজননকাল সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর। স্ত্রী কুমির জোয়ারের পানি থেকে নিরাপদ নির্জন কাদাময় পাড়ে কাদা, পাতা ও পচনশীল উদ্ভিদ দিয়ে ঢিবির মতো বাসা বানায়; পচা উদ্ভিদের তাপেই ডিম ফোটে। নভেম্বর থেকে মার্চে ৪০ থেকে ৬০টি ডিম পাড়ে, ফুটতে লাগে ৮০ থেকে ৯০ দিন। স্ত্রী ১০ থেকে ১২ বছরে ও পুরুষ ১৬ বছরে প্রাপ্তবয়স্ক হয়; আয়ু ৪০ থেকে ৮০ বছর।
ছবি: RFR-113 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)