জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে চারটি অগ্রাধিকার ঠিক করেছে বাগেরহাটের মোংলার জেলে পরিবারগুলো। সিজিআইএআর জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১৮ থেকে ২০ আগস্ট উলুবুনিয়া গ্রামে সিজিআইএআর ক্লাইমেট অ্যাকশন কর্মসূচির আওতায় ওয়ার্ল্ডফিশ একটি যৌথ পরিকল্পনা কর্মশালার আয়োজন করে।
উলুবুনিয়া মোংলা নদী ও সুন্দরবনের কাছে। অনেক পরিবার সুন্দরবন, মোংলা ও পশুর নদী এবং বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরে, কেউ কেউ পুকুরে মাছ, চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষ করে। গরম, ঝড়, বন্যা ও লবণাক্ততা দুই কাজই কঠিন করে তুলছে। জুন থেকে আগস্টের বার্ষিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা বিকল্প আয়হীন পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ।
২০২৪ সালের ঘূর্ণিঝড় রেমাল দেখিয়েছে ঝুঁকিগুলো কীভাবে একসঙ্গে আসে। রোজিনা বেগমের ঘর পানিতে ডুবে ভেঙে পড়ে, লোনা পানি ঢুকে তাঁর পুকুরের মাছ ভাসিয়ে নেয় এবং পুকুরটি চাষের অযোগ্য হয়ে যায়। তাঁর হিসাবে ক্ষতি প্রায় ২ লাখ টাকা। ক্ষুদ্র জেলে ও সমবায় নেতা রফিকুল শেখ বলেন, কখনো নৌকা ঘাট ছাড়তে পারে না বা মাঝপথে ফিরতে হয়, আর প্রচণ্ড গরমের দিনে মাথাব্যথা, বমি, কখনো হিটস্ট্রোক হয়। নৌকার মালিক গাজী রুহুল আমিন জানান, ঘূর্ণিঝড়ে নৌকা, জাল ও ঘরবাড়ি নষ্ট হয়।
পরিবারগুলো এর মধ্যেই খাপ খাওয়াচ্ছে: বৃষ্টির পানি ধরে রাখা, ঘরের ভিটা উঁচু করা, লবণসহিষ্ণু ফসল চাষ, বিপজ্জনক আবহাওয়ায় মাছ ধরতে না যাওয়া এবং ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার সতর্কবার্তা মেনে চলা। লবণাক্ততা ও রোগ বাড়ায় কেউ কেউ মাছ-চিংড়ি ছেড়ে কাঁকড়া চাষে যাচ্ছেন, কেউ নদীর পাড় ও বাঁধে গাছ লাগাচ্ছেন, কেউ সন্তানদের পড়াশোনায় বিনিয়োগ করছেন।
জেলে, নৌকার মালিক, ব্যবসায়ী, নারী সংগঠন, সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অংশগ্রহণে ঠিক হওয়া চার অগ্রাধিকার হলো: নিরাপদ পানি ও লবণাক্ততা ব্যবস্থাপনা, যেমন বন্যাসহিষ্ণু পুকুর, বৃষ্টির পানি শোধন, মজবুত বাঁধ এবং প্রয়োজনে লবণমুক্তকরণ; আগাম সতর্কতা, প্রস্তুতি ও পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা, নারীদের প্রয়োজন মেটায় এমন আশ্রয়কেন্দ্রসহ; জলবায়ুসহিষ্ণু কৃষি ও মাছচাষ, লবণসহিষ্ণু ফসল এবং নিষেধাজ্ঞার সময়ের বিকল্প আয়ে বৈচিত্র্যময় জীবিকা; আর স্বাস্থ্যসেবা, সমাজভিত্তিক সংগঠন ও ঘূর্ণায়মান তহবিলসহ শক্তিশালী স্থানীয় সেবা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে পদক্ষেপ ঠিক করা এবং সরকারি দপ্তর ও জেলেদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন। কর্মশালা অবশ্য যাচাই করেনি যে প্রস্তাবিত পদক্ষেপ উলুবুনিয়াকে বেশি সহনশীল করবে কি না। সিজিআইএআর বলছে, এই তালিকা বাস্তবে রূপ দিতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ, স্পষ্ট দায়িত্ব, অর্থ এবং জেলেদের অব্যাহত অংশগ্রহণ লাগবে।
ছবি: Hafijulwiki / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: CGIAR





মন্তব্য
(০)