মাটিতে ডিএনএ-যুক্ত ফসফরাস (ডিএনএ-পি) মাপার একটি গবেষণাগার পদ্ধতি আরও সহজ ও সস্তা করেছেন একদল আন্তর্জাতিক গবেষক। এতে মাটির অণুজীব কীভাবে ফসলের জন্য ফসফরাস সহজলভ্য করে, তা বোঝা সহজ হতে পারে। ওমানের সুলতান কাবুস বিশ্ববিদ্যালয়ের (Sultan Qaboos University) বিজ্ঞপ্তির বরাতে খবরটি দিয়েছে বিজ্ঞান সংবাদ সাইট সায়েন্সডেইলি।
গাছের বৃদ্ধি ও খাদ্য উৎপাদনে ফসফরাস অপরিহার্য, কিন্তু পৃথিবীর প্রাকৃতিক মজুত সীমিত। তাই মাটিতে এই পুষ্টি উপাদান কীভাবে জমা থাকে, রূপ বদলায় ও ছাড়া পায়, তা জানা জরুরি; এতে জমির উর্বরতা ধরে রেখে অপচয় ও পরিবেশের ক্ষতি কমানো যায়।
ডিএনএ-পি হলো জীবন্ত অণুজীবের সঙ্গে যুক্ত জৈব ফসফরাসের একটি অংশ; অণুজীব অনবরত পুষ্টি গ্রহণ করে, রূপান্তর করে ও ছেড়ে দেয়। জার্নাল অব অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড মেরিন সায়েন্সেসে প্রকাশিত গবেষণায় সুলতান কাবুস বিশ্ববিদ্যালয়, জেমস হাটন ইনস্টিটিউট (James Hutton Institute), ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা প্রচলিত একটি পদ্ধতি পরীক্ষা ও সংশোধন করে যুক্তরাজ্যের ৩২ ধরনের মাটিতে প্রয়োগ করেছেন।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো এনজাইম দিয়ে প্রক্রিয়াকরণের ধাপ বাদ দেওয়া, যা অপ্রয়োজনীয় বলে দেখা গেছে; এতে প্রয়োজনীয় নির্ভুলতা ও সংবেদনশীলতা বজায় রেখেই পদ্ধতিটি সহজ ও সাশ্রয়ী হয়েছে। তবে আল্ট্রাফিলট্রেশনের ধাপটি অপরিহার্যই রয়ে গেছে, কারণ এটি ছাড়া ফসফরাসযুক্ত অন্য যৌগ থেকে ডিএনএ-পি আলাদা করা যায় না।
মাটিতে মোট জৈব ফসফরাসের তুলনায় ডিএনএ-পি সামান্য হলেও এর পরিমাণের সঙ্গে মাটির পিএইচ, অণুজীবের দেহে থাকা ফসফরাস, জৈব পদার্থ এবং মাটির পানিতে দ্রবীভূত ফসফরাসের জোরালো সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এতে বোঝা যায়, ডিএনএ-পি দীর্ঘস্থায়ী মজুতের চেয়ে জীবন্ত অণুজীবের সঙ্গেই বেশি যুক্ত।
গবেষকদের মতে, পদ্ধতিটি মাটির জৈবভাবে সক্রিয় ফসফরাস এবং অণুজীব সম্প্রদায় কীভাবে গাছের জন্য ফসফরাসের জোগানে প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে কাজের একটি ব্যবহারিক হাতিয়ার। এটি মাটির উর্বরতা, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং সীমিত এই সম্পদের আরও দক্ষ ব্যবহার নিয়ে গবেষণায় কাজে আসতে পারে।
ছবি: US Department of Agriculture / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: সায়েন্সডেইলি





মন্তব্য
(০)