ঢাকার শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর চাপ এতটাই বেড়েছে যে এক বেডে দুই থেকে তিনটি শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালটিতে গিয়ে এমন চিত্র দেখেছে ইত্তেফাক।
হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও ডেঙ্গুর ফোকাল পারসন ডা. ফারজানা আফরোজ জানান, তিনটি শিশু ওয়ার্ডে ২০টি করে মোট ৬০টি বেড। এর মধ্যে ৩০টি বেড ডেঙ্গুর জন্য রাখা হলেও রোগী ৭০ জনের বেশি। হামের শিশুরোগী এখনও থাকায় ডেঙ্গুর জন্য আলাদা ওয়ার্ড করা যাচ্ছে না। প্রতিটি শিশুর সঙ্গে একজন করে স্বজন থাকায় একটি বেডে ছয়জন পর্যন্ত থাকছেন, যাকে তিনি ভয়াবহ অবস্থা বলেছেন। তবে তাঁর দাবি, নতুন গাইডলাইন মেনে চিকিৎসা দেওয়ায় এই হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কোনো শিশু বা বড় রোগীর মৃত্যু হয়নি।
শিশু ওয়ার্ডের জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্সরা জানান, প্রয়োজনের তুলনায় নার্স কম। রাতের পালায় একটি শিশুর ক্যানুলা করাতেই তিন-চারজনের সাহায্য লাগে। শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থেকে ২২ মাসের মেয়েকে নিয়ে আসা এক মা জানান, শিশুর প্রচণ্ড জ্বর, পা ফুলে গেছে। একই বেডে থাকা দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী শুক্রবার থেকে জ্বরে ভুগছিল, হাসপাতালে এসে তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৪২ জন। চলতি বছর মৃত্যু দাঁড়াল ২৩৯ জনে, মোট আক্রান্ত ৭৭ হাজার ৬৭২ জন। রবিবার এক দিনে ২ হাজার ১৫৮ জন আক্রান্ত হন, যা এ বছরের সর্বোচ্চ; সোমবার আক্রান্ত হন ২ হাজার ৩৬ জন।
ডা. ফারজানা আফরোজের পরামর্শ, বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে যাতে এডিস মশা জন্মাতে না পারে; ঘুমানোর সময় শিশুকে মশারির ভেতরে রাখতে হবে এবং পুরো হাতার জামা পরাতে হবে। শিশুর জ্বর হলেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই: বমি বা কোনো বিপদচিহ্ন না থাকলে বাড়িতে রেখেও চিকিৎসা করা যায়, তবে ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ছয়বার প্রস্রাব হচ্ছে কি না, মায়েদের খেয়াল রাখতে হবে। জ্বরের সময় খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, ফলের রস ও স্যুপ খাওয়ানোর কথা বলেছেন তিনি।
প্রতিবেদনটি করেছেন ইত্তেফাকের মোরশেদা ইয়াসমিন পিউ।
সূত্র: ইত্তেফাক



মন্তব্য
(০)