অ্যান্টিবায়োটিক চলার সময় চিনিযুক্ত খাবার বেশি খেলে অন্ত্রের অণুজীবের বৈচিত্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে এবং বিপজ্জনক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে, বলছে নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণা। সিএনএনের প্রতিবেদনের বরাতে আজকের পত্রিকা গবেষণাটির খবর দিয়েছে।
নিউইয়র্কের মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটারিং ক্যানসার সেন্টার, এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথ এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের সিটি অব হোপের গবেষকেরা স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের আগে হাসপাতালে ভর্তি থেকে দীর্ঘ সময় অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়া ১৭৩ জন ক্যানসার রোগীর ১ হাজারের বেশি মলের নমুনা বিশ্লেষণ করেন। রোগীরা হাসপাতালের তৈরি ৯ হাজার ৪০০-র বেশি খাবার খেয়েছিলেন, তাই কে কী এবং কতটা খেয়েছেন, তা নির্ভুলভাবে জানা গেছে।
গবেষণার অন্যতম লেখক জোনাথন পেলেড জানান, বারবার যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা হলো চিনি যত বেশি, অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর প্রভাব তত বেশি; বিশেষ করে খাবারে যোগ করা চিনি। অ্যান্টিবায়োটিকের সময় প্রতি প্রায় ৯৯ গ্রাম বাড়তি মিষ্টি খাবারের সঙ্গে মাইক্রোবায়োমের বৈচিত্র্য প্রায় ২৪ শতাংশ কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে এন্টারোকক্কাস ফেসিয়াম নামের ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত বৃদ্ধির যোগ আছে, যা কখনো অন্ত্রের দেয়াল পেরিয়ে রক্তে ঢুকে সেপসিসের মতো মারাত্মক সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে চিনিযুক্ত খাবার দিলে তৃতীয় দিনে এন্টারোকক্কাস ১৬ গুণ এবং ষষ্ঠ দিনে ৩৩ গুণ বেড়েছে। গড়ের চেয়ে বেশি চিনি খাওয়া রোগীদের প্রতিস্থাপনের পর মৃত্যুঝুঁকি কম চিনি খাওয়াদের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেশি ছিল, যাকে গবেষকেরা ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বলেছেন।
তবে এটি কারণ-ফলের চূড়ান্ত প্রমাণ নয় বলে জানানো হয়েছে। পেলেডের মতে, অতিরিক্ত চিনি এমনিতেই এড়িয়ে চলা ভালো, তাই অ্যান্টিবায়োটিকের সময় চিনি কমানো অযৌক্তিক নয়; কিন্তু পুরো সময় মিষ্টি একেবারে বাদ দিতে হবে, এমন প্রমাণ গবেষণায় মেলেনি। গবেষণায় যুক্ত নন এমন বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি মারেসো প্রশ্ন তুলেছেন, হাসপাতালের রোগীদের খাদ্যতালিকা বদলানো উচিত কি না এবং বাইরের সাধারণ রোগীদের ক্ষেত্রেও একই ফল প্রযোজ্য কি না।
প্রতিবেদনটি আজকের পত্রিকা ডেস্কের প্রতিবেদন অবলম্বনে, যার সূত্র সিএনএন ও নেচার সাময়িকী।
ছবি: Janice Haney Carr, CDC / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)