আয়ারল্যান্ডের কৃষি ও খাদ্য উন্নয়ন সংস্থা Teagasc (টিগাস্ক) ফসল চাষিদের (টিলেজ খামার) শরতের শুরুকেই মাটি পরীক্ষার অগ্রাধিকার সময় হিসেবে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। খরায় ঘাস ও দানাশস্য দুটোই চাপে পড়া একটি কঠিন বছরের পর এখনই মাটির উর্বরতার হিসাব নেওয়ার এবং ২০২৭ সালের জন্য কোন কোন জমির নমুনা নিতে হবে তা ঠিক করার সময়।
মাটি পরীক্ষায় জমি ধরে ধরে পিএইচ, ফসফরাস (পি) ও পটাশিয়াম (কে)-এর চিত্র পাওয়া যায়; ফলে যেখানে দরকার সেখানেই চুন ও সার যায়, অপ্রয়োজনীয় প্রয়োগ এড়ানো যায়। পুষ্টি পরিকল্পনার জন্য পরীক্ষার ফল চার বছর বৈধ থাকে; কোন নমুনার মেয়াদ শেষ হয়েছে বা ২০২৭-এর জন্য নবায়ন দরকার, তা এখনই যাচাই করতে বলা হয়েছে। পুরোনো ফল বিভ্রান্তিকর চিত্র দিয়ে ভুল সিদ্ধান্তে ঠেলতে পারে।
নিয়ন্ত্রক কারণও আছে। হেক্টরে ১৩০ কেজির বেশি জৈব নাইট্রোজেন পশুঘনত্বের চারণভিত্তিক খামার এবং দানাশস্যের জমিতে বৈধ মাটি-পরীক্ষার ফল না থাকলে রাসায়নিক ফসফরাস সার দেওয়া যায় না। এই শ্রেণির চাষিদের ২০২৭ সালের ফসফরাস-বরাদ্দ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট জমির নমুনা এখনই নিতে হবে।
টিগাস্কের মতে ফল হাতে এলে প্রথমেই দেখতে হবে মাটির পিএইচ। চুন পুষ্টির লভ্যতা বাড়ায় এবং প্রয়োগ করা সারের ব্যবহার উন্নত করে। সংস্থাটির গবেষণায় কেবল চুন থেকেই হেক্টরে গড়ে প্রায় ১.৫ টন শুষ্ক পদার্থ বাড়তি ঘাস মিলেছে; প্রতি ১ ইউরো বিনিয়োগে আনুমানিক ৬ থেকে ১০ ইউরো ফেরত। ফসলের খামারে হেক্টরে অন্তত ১.৫ টন বাড়তি দানা পাওয়ার নজিরও আছে।
সারের প্রতিটি লেনদেন এখন জাতীয় সার তথ্যভান্ডারে (National Fertiliser Database) নথিভুক্ত হওয়ায় চাষিদের নিজেদের বরাদ্দ জানা ও ব্যবহারের হিসাব রাখা আগের চেয়ে জরুরি, যাতে সীমা ছাড়িয়ে না যায়। হালনাগাদ পরীক্ষা থাকলে ২০২৭ সালের চুন ও সারের সিদ্ধান্ত প্রতিটি জমির প্রকৃত চাহিদার ওপর দাঁড়াবে—উৎপাদন বজায় থাকবে, অপচয় হবে না। সুষম উর্বরতা ও পিএইচ মাটির স্বাস্থ্য, কার্বন সঞ্চয়, নাইট্রোজেন স্থিরীকরণ ও ফসলের অবশিষ্টাংশ পচনেও সহায়ক।
পরামর্শটি Agriland-এর জন্য লিখেছেন Richard Halleron (রিচার্ড হ্যালেরন)।
সূত্র: Agriland





মন্তব্য
(০)