জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের বেগুনগ্রামে বিশাল ফসলি মাঠের মাঝের একমাত্র সেতুটি ভেঙে পড়ে আছে চার বছর ধরে। এতে দুই গ্রামের কৃষকের মাঠে যাওয়ার সহজ পথ বন্ধ হয়ে গেছে এবং শত শত কৃষককে ফসল পরিবহনে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে জয়পুরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড জিন্দারপুর ইউনিয়নের ছোট নদী ও খাল পুনঃখনন করে। এরপর থেকে বর্ষা এলেই এলাকায় পানির প্রবাহ বেড়ে যায়। টানা বর্ষণ ও অতিবৃষ্টিতে সেতুর দুই পাশের মাটি ধসে পড়ে এবং এক পর্যায়ে মাঝের অংশ ভেঙে নিচে পড়ে যায়। চার বছরেও স্থানীয় এলজিইডি বা ইউনিয়ন পরিষদ সেতুটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে বড় বড় গর্ত হয়েছে এবং মাঝের অংশ চলাচলের অনুপযোগী। কৃষকেরা বাঁশ ও কাঠের অস্থায়ী সাঁকো বানিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন। ভারী কৃষিযন্ত্র বা ফসলবোঝাই ভ্যান ওই পথে চলতে না পারায় চাষিরা মাথায় করে ফসল পার করছেন।
কৃষকেরা জানান, বেগুনগ্রাম পশ্চিম মাঠের শত শত বিঘা জমির চাষাবাদ এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল। সেতু থাকলে ধান, আলুসহ অন্যান্য ফসল সহজে বাড়িতে আনা যেত; এখন সময় ও পরিবহন ব্যয় দুটোই বেড়েছে। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বারবার জানিয়েও কোনো ফল হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।
বেগুনগ্রামের কৃষক সিজার রহমান বলেন, সেতু ভাঙার পর ধান ও আলুখেতের পরিচর্যা করতে অনেক দূর ঘুরে যেতে হয় এবং ফসল কাটার পর বাড়িতে আনতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। একই গ্রামের কৃষক আবু জাফর বলেন, বর্ষায় খালে পানি বাড়লে জমিতে যাওয়া, সেচ দেওয়া বা ফসল তোলা আরও কষ্টকর হয়ে পড়ে।
কালাই উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ জানান, বেগুনগ্রাম মাঠে চাষিদের চলাচলের একমাত্র সেতুটি নতুন করে নির্মাণের প্রস্তাব কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে; বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।
সমকালের জয়পুরহাট প্রতিনিধির প্রতিবেদন অবলম্বনে।
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)