শুধু গাছ লাগালেই চলবে না, কোন প্রজাতির গাছ লাগানো হচ্ছে সেটিই আসল—এই বার্তা দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী। তিনি বলেছেন, রাজধানী ঢাকাকে সবুজ ও বাসযোগ্য করার পাশাপাশি পাহাড়ে অর্থকরী ফসল ও মূল্যবান প্রজাতির বৃক্ষরোপণে জোর দিতে হবে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ঢাকার সবুজায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ফলজ গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকার সংগঠন ‘শেকড়’ ও ‘গ্রীনওয়াচ’ যৌথভাবে সভাটির আয়োজন করে।
মন্ত্রীর যুক্তি, নিম্নমানের বা সাধারণ চারা বড় হয়ে শেষ পর্যন্ত জ্বালানি কাঠ কিংবা কমদামি আসবাব তৈরিতেই ব্যবহৃত হয়। শুরুতেই মানসম্মত ও উচ্চমূল্যের প্রজাতি বেছে নিলে তার অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব অনেক বেশি হয়। তাঁর ভাষায়, ছাদবাগান, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ঢাকার সবুজায়ন এখন জাতীয় অগ্রাধিকার; এ নিয়ে ভিডিও ফুটেজ ও হ্যান্ডবিলের মাধ্যমে সামাজিক প্রচার জোরদার করা দরকার, আর ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে সাচিং প্রু জেরী বলেন, পাহাড়ে প্রচলিত কলা বা পেঁপের পাশাপাশি কাজুবাদাম, কফি ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য এবং মসলাজাতীয় ফসল চাষের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। পাহাড়ে উৎপাদিত মসলা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে পারে। এর সঙ্গে লটকন চাষ ও ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালনের মাধ্যমে পার্বত্য এলাকার প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
ঢাকা শেকড়ের ট্রাস্টি হাজী মোতালেব মাশরাকির সভাপতিত্বে সভায় আরও ছিলেন গ্রীনওয়াচের সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া ও কৃষিবিদ ড. মেহেদি মাসুদ। আলোচনা শেষে মন্ত্রী আয়োজক ও উপস্থিতদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছের চারা বিতরণ করেন।
পাহাড়ের চাষিদের জন্য মন্ত্রীর বক্তব্যের তাৎপর্য হলো, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ ব্যক্তি প্রকাশ্যে কলা-পেঁপের বাইরে কাজু, কফি, মসলা, লটকন ও ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলকে পাহাড়ের অর্থনীতির পরবর্তী ধাপ হিসেবে তুলে ধরলেন—বাজারমুখী চাষি ও কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য যা একটি স্পষ্ট নীতিগত সংকেত।
সূত্র: বাংলানিউজ২৪





মন্তব্য
(০)