আয়ারল্যান্ডের দুগ্ধ খামারগুলোতে ঘাসের বৃদ্ধি আবার বেড়েছে। PastureBase Ireland (পাস্চারবেজ আয়ারল্যান্ড)-এর তথ্য অনুযায়ী জাতীয় গড় বৃদ্ধির হার এখন হেক্টরে দৈনিক ৬৩ কেজি শুষ্ক পদার্থ (ডিএম)। গ্রীষ্মের প্রায় পুরোটা সময় দেশটির দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল মাটির আর্দ্রতা-ঘাটতিতে ভুগেছে; সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সেই ঘাটতি নেমে এসেছে ০ থেকে ৩৫ মিলিমিটারে, যদিও কিছু নিচু জমি আবার জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
অঞ্চলভেদে হিসাবে উত্তর-পশ্চিমে বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি, হেক্টরে ৭১ কেজি ডিএম; দক্ষিণ-পূর্বে সবচেয়ে কম, ৫৩ কেজি। সন্ধ্যা দ্রুত নেমে আসায় সপ্তাহে ভালো বৃষ্টি হলেও বৃদ্ধি থমকে গিয়ে ৪৫–৬০ কেজিতে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত এক সপ্তাহে খামারের গড় ঘাস-আচ্ছাদন (এভারেজ ফার্ম কভার) বেড়ে হয়েছে হেক্টরে ৭৯৮ কেজি ডিএম, আর চারণের আগে গড় ফলন ১,৫৭৪ কেজি ডিএম। গাভীর গড় খাদ্যতালিকায় এখনও ১২.৫ কেজি ঘাস, ৪.৫ কেজি দানাদার খাবার ও ২ কেজি সাইলেজ থাকছে; তবে যেসব খামার এখনও সাইলেজ খাওয়াচ্ছে, তারা এ সপ্তাহেই পুরোপুরি ঘাসে ফিরতে চাইবে, আর যারা ইতিমধ্যে ঘাসে আছে, তারা শীতের আগে নগদ প্রবাহ বাঁচাতে দানাদার খাবার কমাতে পারে।
পরামর্শ হলো, এখন থেকে চারণচক্র ৩৫ দিনে নিয়ে যাওয়া, যাতে বছরের বাকি বৃদ্ধিটুকু ঠিকমতো কাজে লাগে। ১২ ঘণ্টার স্ট্রিপ-তার ব্যবহার করলে ঘাস বণ্টন সঠিক হয়, চক্র ধীর হয় এবং চারণের পর জমিতে যথেষ্ট ঘাস অবশিষ্ট থাকে। বৃদ্ধি ৫০–৫৫ কেজির ওপরে থাকলে ১ অক্টোবরের মধ্যে খামারগুলো ৯৫০–১,০০০ কেজি ডিএমের লক্ষ্য-আচ্ছাদনে পৌঁছাতে পারবে; ভালো ঘাস-বৃদ্ধির আবহাওয়া আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। বসন্তের জন্য ঘাস রাখতে শেষ চারণচক্র শুরু করতে হবে ১০ অক্টোবর।
রাসায়নিক নাইট্রোজেন ও ফসফরাস ছড়ানোর সময় শেষ হলেও ১ অক্টোবর পর্যন্ত স্লারি এবং ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেইরি ওয়াশিং জমিতে দেওয়া যাবে। একরে প্রায় ২,০০০ গ্যালন ডেইরি ওয়াশিং এই শরতে উল্লেখযোগ্য নাইট্রোজেন জোগাতে পারে; ফসফরাস ও পটাশিয়াম সূচক কম এমন চারণভূমিতে একরে ২,৫০০ গ্যালন হারে স্লারি দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চুন সারা বছরই দেওয়া যায়, আর কম পিএইচের জমিতে ভালোভাবে চারণ বা সাইলেজ কাটার পর শরৎ চুন দেওয়ার ভালো সময়।
সাপ্তাহিক ঘাস-প্রতিবেদনটি Agriland-এর জন্য লিখেছেন Cathal O'Shea (কাহাল ও'শে)।
সূত্র: Agriland





মন্তব্য
(০)