যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যে শরতের পরিযায়ী পাখির মৌসুম শুরু হয়েছে, আর তার সঙ্গে বেড়েছে খামারের হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুতে অতি সংক্রামক বার্ড ফ্লু (এইচপিএআই) ছড়ানোর ঝুঁকি। নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি (NDSU, এনডিএসইউ) এক্সটেনশনের বিশেষজ্ঞরা এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। গত ১ সেপ্টেম্বর লামুর কাউন্টির একটি বাণিজ্যিক টার্কি খামারে রোগটি নিশ্চিত হয়, যা এই শরতে অঙ্গরাজ্যটির প্রথম ঘটনা।
এনডিএসইউ এক্সটেনশনের পশুচিকিৎসক ড. জেক গালব্রেথ (Jake Galbreath) জানান, বন্য পাখিই এই ভাইরাসের বাহক। টাইপ এ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসটি আক্রান্ত পাখির মল ও শ্বাসনালির নিঃসরণের মাধ্যমে ছড়ায় এবং ঠান্ডা, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। গৃহপালিত প্রাণীর মধ্যে সংক্রমণ বেশি হয় হাঁস-মুরগি ও দুগ্ধ গাভিতে, তবে ছাগল ও শূকরেও রোগটি পাওয়া গেছে; বিড়াল আক্রান্ত হলে মারাত্মক, এমনকি প্রাণঘাতী অসুস্থতায় ভুগতে পারে।
২০২৬ সালে এ পর্যন্ত নর্থ ডাকোটায় গৃহপালিত পাখি ও পোলট্রিতে ছয়টি ইতিবাচক ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, দুগ্ধ খামারে একটিও নয়। আইন অনুযায়ী আক্রান্ত প্রাণী বাণিজ্যিক বাজারে তোলা নিষিদ্ধ। প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রমণের হার কম হলেও রোগটি জুনোটিক, অর্থাৎ মানুষে ছড়াতে সক্ষম।
বন্য পাখি থেকে খামারের পাখিকে দূরে রাখতে গালব্রেথের পরামর্শ: সম্ভব হলে ঝুঁকি না কমা পর্যন্ত হাঁস-মুরগি ও পশু ঘরে রাখা, খামারঘরের আশপাশে আবর্জনা ও ছড়ানো খাবার পরিষ্কার রাখা, এবং বন্যপ্রাণীর সংস্পর্শে এলে খামারে ঢোকার আগে পোশাক বদলানো, হাত ধোয়া ও জুতা জীবাণুমুক্ত করা। অসুস্থ বা মৃত বন্য পাখি দেখলে নর্থ ডাকোটা গেম অ্যান্ড ফিশ ডিপার্টমেন্টকে জানাতে বলা হয়েছে।
খামার থেকে খামারে সংক্রমণ ঠেকাতে সবচেয়ে ভালো সুরক্ষা একটি লিখিত জৈব নিরাপত্তা পরিকল্পনা, বলছেন এনডিএসইউ এক্সটেনশনের প্রাণিসম্পদ পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ মেরি কিনা (Mary Keena)। তাঁর পরামর্শ: দর্শনার্থী সীমিত রাখা, খাদ্যের দোকান বা অন্য খামার ঘুরে এলে গাড়ি ও চাকা জীবাণুমুক্ত করা, নতুন প্রাণীকে অন্তত ৩০ দিন আলাদা রাখা, আর প্রতিবেশীর সঙ্গে যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জাম ভাগাভাগি না করা।
শিকারের মৌসুম আলাদা ঝুঁকি আনে। মাঠ বা জলাভূমিতে শিকার করে ফেরা ব্যক্তিদের পশুর যত্ন নেওয়ার আগে পোশাক ও জুতা বদলাতে, যেখানে জলচর পাখির মল জমে সেসব জায়গা দিয়ে ট্রাক-ট্রাক্টর না চালাতে, শিকার করা পাখির পালক মাঠেই ছাড়িয়ে ফেলতে এবং ছুরি ও কুলার খামারের পাখি পৌঁছায় না এমন জায়গায় জীবাণুনাশক সাবানে ধুতে বলা হয়েছে।
ভালোভাবে রান্না করা মাংস ও ডিম এবং পাস্তুরিত দুগ্ধপণ্যে বার্ড ফ্লুর কোনো খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকি নেই, তবে আক্রান্ত গাভির কাঁচা দুধ ও কাঁচা দুধের পনিরে ঝুঁকি আছে বলে জানান এনডিএসইউ এক্সটেনশনের বিশেষজ্ঞ মিরান্ডা মিহান (Miranda Meehan)। পাখির পরিযান অনলাইনে বার্ডকাস্ট নামের একটি বাস্তব সময়ের পূর্বাভাস টুলে দেখা যায়; অসুস্থ পাখি বা পশু দেখলে স্থানীয় পশুচিকিৎসক অথবা অঙ্গরাজ্যের পশুচিকিৎসা দপ্তরে জানাতে বলা হয়েছে।
সূত্র: Morning Ag Clips





মন্তব্য
(০)