চ্যানেল আই অনলাইনের মতামত বিভাগে জেবুন্নেসা চপলা লিখেছেন, সারা পৃথিবীজুড়ে মাটির প্রতি অবহেলা আর নির্মম আচরণ চলছে। বেশি মুনাফার আশায় মাটির তলা থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খনিজ তোলা হচ্ছে; পুকুর, নদী, খাল-বিল, হাওর ভরাট হচ্ছে; অরণ্য উজাড়, বন্যপ্রাণী নিশ্চিহ্ন আর কলকারখানার বর্জ্যে পরিবেশ বিপর্যস্ত।
লেখকের মতে, অতিরিক্ত কার্বন ও গ্রিনহাউস গ্যাসে জলবায়ু বদলাচ্ছে, তাপমাত্রা বেড়ে হিমবাহ গলছে। প্লাস্টিক ও কারখানার বর্জ্যে জলাশয় ভরাট ও দূষিত হচ্ছে, মাটি হয়ে পড়ছে মৃত, বন্ধ্যা ও দুর্গন্ধময়। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষাকারী পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গও ধ্বংস হচ্ছে।
এ অবস্থায় পরিবেশবিদ ও আদিবাসীরা যে 'ভূমিনির্ভর শিক্ষা'র কথা বলছেন, লেখক তাকে সময়ের দাবি বলেছেন: এমন শিক্ষা, যা মানুষকে প্রকৃতি ও ভূমির সঙ্গে গভীর ও দায়িত্বশীল সম্পর্ক গড়তে শেখায়, শেখায় মাটি, জল, বন ও প্রাণী আমাদের থেকে আলাদা নয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম মাটি, জল ও বন আগলে রাখা আদিবাসী মানুষের কাছ থেকে শেখার কথাও বলেছেন তিনি।
তাঁর যুক্তি, আমাদের খাদ্য, পানি, অক্সিজেন সবই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাটির সঙ্গে যুক্ত; মাটির বুকেই গাছ জন্মায়, ফুল ফোটে, ফসল ফলে। তাই মাটিকে অবহেলা করা মানে নিজের ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করা, আর পরের প্রজন্মের প্রতি অন্যায়: তারা কি পাবে সবুজ পৃথিবী, নাকি বিষাক্ত বাতাস, দূষিত পানি আর মৃত মাটি?
লেখক সবাইকে মাটিকে ভালোবাসা, যত্ন করা ও প্রকৃতি রক্ষার আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, মাটি বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে, প্রকৃতি বাঁচলে মানুষ বাঁচবে।
লেখায় প্রকাশিত মত লেখকের নিজস্ব।
ছবি: Muhammad Amdad Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: চ্যানেল আই অনলাইন





মন্তব্য
(০)