খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে জিংক বায়োফর্টিফাইড ধানসহ পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে সিরাজগঞ্জের এক কর্মশালায়। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে মাল্টি-সেক্টরাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (মেইন) প্রকল্পের আওতায় এই অ্যাডভোকেসি কর্মশালা হয়।
কর্মশালায় জানানো হয়, মেইন প্রকল্পের আওতায় চলতি আমন মৌসুমে সিরাজগঞ্জে ৮০০ কৃষককে জিংক বায়োফর্টিফাইড ধানের বীজ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আসন্ন বোরো মৌসুমে ৩ হাজার ৬০০ কৃষকের মধ্যে বীজ বিতরণ, প্রশিক্ষণ এবং ২০টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়ের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ আমিনুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) সিরাজগঞ্জের উপপরিচালক এ. কে. এম. মনজুরে মাওলা এবং জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল ইসলাম। হারভেস্টপ্লাস সল্যুশনসের কান্ট্রি ম্যানেজার মোঃ ওয়াহিদুল আমিন ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোঃ মজিবর রহমানসহ কৃষি, খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও গবেষণা খাতের সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
জেলা প্রশাসক মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, "সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। এখন আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তার ওপর জোর দিতে হবে।" দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় জিংকসমৃদ্ধ চাল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শারীরিক ও মেধাগত বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হারভেস্টপ্লাস সল্যুশনসের কান্ট্রি ম্যানেজার সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও স্কুল ফিডিংসহ সরকারের চলমান কর্মসূচিতে বায়োফর্টিফাইড চাল অন্তর্ভুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। ডিএইর উপপরিচালক বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কৃষি বিভাগ কৃষকের পাশে আছে এবং সিরাজগঞ্জে এ কার্যক্রম চালিয়ে নিতে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।
ডিএইর অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) আনোয়ার সাদাতের সঞ্চালনায় উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বায়োফর্টিফাইড ফসলের বাজার তৈরি ও জনসচেতনতা বাড়ানোর নানা দিক তুলে ধরেন। কর্মশালাটি বাস্তবায়ন করে হারভেস্টপ্লাস সল্যুশনস (এইচপিএস)।
কৃষকের জন্য এর অর্থ, জিংক ধানের বীজ ও চাষের প্রশিক্ষণ এখন আমন থেকে বোরো মৌসুমে আরও বেশি মাঠে যাচ্ছে; সরকারি খাদ্য কর্মসূচিতে এ চাল যুক্ত হলে তার একটি নিশ্চিত বাজারও তৈরি হতে পারে বলে কর্মশালায় আলোচনা হয়।
সূত্র: এগ্রিনিউজবিডি





মন্তব্য
(০)