সিন্ডিকেটের কারণে অস্থির হয়ে উঠেছে ফার্মের ডিম ও পোল্ট্রি মুরগির বাজার। এ অবস্থায় ডিম-মুরগির দাম নির্ধারণে সিন্ডিকেট ভাঙার আকুতি জানিয়েছেন প্রান্তিক খামারিরা। তাদের অভিযোগ, বৃহৎ ১০-১২টি কোম্পানি মুরগির বাচ্চা বিক্রি, ডিম উৎপাদন ও পোল্ট্রি বিক্রির ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট করে ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করছে। গত ১৫ দিনে তারা বাজারে সংকট তৈরি করে বাড়তি দাম নির্ধারণের মাধ্যমে কয়েকশ কোটি টাকা অতিরিক্ত মুনাফা করেছে। অপরদিকে মুরগির বাচ্চা ও খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের ব্যয় বেড়েছে। এর ফলে ভালো নেই প্রান্তিক খামারিরা।
শনিবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানায় বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (ডিলার-খামারি সংগঠন)।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার। তিনি বলেন, পোল্ট্রি খাতের বৃহৎ কোম্পানিগুলোর দখলে ৫০ শতাংশ বাজার। বাকি ৫০ শতাংশ তারা নিজেরা (কোম্পানিগুলো) যে রেট নির্ধারণ করে সারাদেশের খামারিদের সেই রেটে চলতে হয়।
বাজারে ডিমের দাম আড়তদাররা নির্ধারণ করেন না দাবি করে সংগঠনটির সভাপতি বলেন, মুরগির বাচ্চা বিক্রি, ডিম উৎপাদন ও পোল্ট্রি বিক্রির ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট করে ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করছে নির্দিষ্ট ১০-১২ টি কোম্পানি।
তিনি বলেন, পোল্ট্রি খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত পণ্য কোনো পরীক্ষা ছাড়াই কোম্পানিগুলো আমদানির সুযোগ পাওয়ায় খাদ্যের মান কমে গেছে। এর সঙ্গে জড়িত আছেন প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা।
ডিম-মুরগির বাজারে অস্থিরতার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদাসীনতা রয়েছে উল্লেখ করে সুমন হাওলাদার বলেন, এখন আর আমদানি নয় রপ্তানি করুন। তার জন্যে নীতিমালা প্রণয়ন, সহজ শর্তে ট্রেনিং ও ট্রেড লাইসেন্স দিতে হবে। এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খন্দকার বলেন, মুরগির বাচ্চার উৎপাদন খরচ ২৫ থেকে ২৮ টাকা। অথচ কখনো ৪০, ৫০ কিংবা ৭২ টাকা বিক্রি হয়। এমনকি গতবছর ৯৫ টাকাও বিক্রি করেছে। ফলে ৪০ শতাংশ খামারি খামার বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।
খামারি পর্যায়ের সংকটের কথা উল্লেখ করে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকারি প্রণোদনা খামারিরা পায় না, কোম্পানিগুলো হাতিয়ে নিয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে খামারিদের কাছে প্রণোদনা পৌঁছায় না, ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়া হয় না, এমনকি এনজিওগুলো ঋণ দেয় না।
ইলিয়াস খন্দকার বলেন, কোম্পানিগুলো 'এ' গ্রেড বাচ্চা নিজেরা নিয়ে 'বি' গ্রেড বাচ্চা খামারিদের কাছে বিক্রি করে। তার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় প্রান্তিক খামারিরা টিকতে পারে না।
পোল্ট্রি খাতকে শতভাগ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খামারিদের প্রণোদনা সহায়তা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা সরকারের দ্বায়িত্ব। আমরা আমিষের জোগান দিচ্ছি এবং বেকারত্ব দূর করছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি বাপ্পী কুমার দে, খুলনা বিভাগীয় সভাপতি বুরহান উদ্দিন, রংপুর বিভাগীয় সভাপতি সুজন মাহমুদ প্রমুখ।
আরএসএম/কেএসআর/এএসএম





মন্তব্য
(০)