ভার্চুয়াল ফেন্সিং কোম্পানি NoFence তাদের তৃতীয় প্রজন্মের গবাদিপশুর কলার N3 বাজারে এনেছে, সঙ্গে একটি নির্ভুল পশুপালন ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম। কোম্পানির বার্তা: ভার্চুয়াল বেড়ার মূল্য এখন খুঁটি সরানোয় নয়, বরং তথ্যে এবং খামারিকে ফিরিয়ে দেওয়া সময়ে।
"NoFence-এর সীমানায় আটকে রাখার হার ৯৯.৭ শতাংশ। আটকে রাখার সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে," বলেন কোম্পানির যুক্তরাষ্ট্র শাখার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক Alex Bell। ২০১১ সালে অসলোতে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন ও আয়ারল্যান্ডেও কাজ করে। খামারিদের আর বেড়া সরাতে বা দূরে গিয়ে গরু দেখতে সময় দিতে হয় না, বলেন তিনি, "পশুস্বাস্থ্য, প্রজনন ও জমির ব্যবহার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাঁদের হাতে এখন পশু ও ঘাসের তথ্য।"
NoFence-এর কলার সৌরশক্তিচালিত ও জিপিএস-যুক্ত—গরু, ভেড়া ও ছাগলের জন্য। সীমানা আঁকা হয় স্মার্টফোন অ্যাপে; কোনো পশু সীমানা-অঞ্চলে ঢুকলে ক্রমে চড়া একটি শব্দ শোনে, আর পুরো সতর্কবার্তা পেরিয়ে না-ফিরলে তবেই মৃদু বৈদ্যুতিক স্পন্দন পায়। সময়ের সঙ্গে পশুরা শব্দেই ফিরে আসতে শেখে।
পরীক্ষাগার ও মাঠের পরীক্ষার ভিত্তিতে N3-কে আগের মডেলের চেয়ে পাঁচ গুণ টেকসই বলা হচ্ছে। এতে আছে তিন স্তরের সংযোগ—আইওটি সেলুলার, NoFence-এর নিজস্ব কলার-থেকে-কলার মেশ নেটওয়ার্ক HerdNet এবং স্যাটেলাইট ব্যাকআপ—যাতে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল এমন দুর্গম এলাকায়ও পাল চোখের আড়াল না হয়।
বড় পরিবর্তন সফটওয়্যারে। প্ল্যাটফর্মটি প্রতিটি প্যাডকের চারণ প্রতিবেদন নিজে তৈরি করে—পশুর ঘনত্ব, চারণের দিন, পালের আকার ও চারণভূমির বিবরণ—যা হাতে হিসাব রাখার দরকার মেটায় এবং NRCS সংরক্ষণ কর্মসূচি বা অন্য সনদের জন্য প্রয়োজনীয় নথি জোগায়। প্যাডক বদল আগে থেকে সময়সূচিতে ফেলা যায় এবং তা নিজে থেকেই ঘটে, যাতে চারণের আবর্তন নিয়মিত থাকে। ব্যবস্থাটি জাবর কাটা ও চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করে একটি "হিট স্কোর" তৈরি করে, যা কারও নজরদারি ছাড়াই গরমে আসতে চলা পশু চিহ্নিত করে। কোম্পানি বলছে, তথ্যের মালিক খামারি; পণ্যের উন্নতির জন্যই কেবল তা একত্র করা হয়, সম্মতি ছাড়া কখনো বিক্রি বা হস্তান্তর হয় না।
গত বছর NoFence ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সিরিজ বি তুলেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র, আয়ারল্যান্ড ও সুইডেনে মনোযোগ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে তারা সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা বাজার বলছে, যদিও সেখানে ভার্চুয়াল বেড়া খাতের ৫ শতাংশেরও কম—নরওয়েতে এক দশকের বেশি বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিপরীতে। বাধা হিসেবে কোম্পানি বলছে প্রযুক্তির পরিপক্বতা নিয়ে ভুল ধারণা, কম সচেতনতা আর নতুন অবকাঠামো নিতে খামারিদের আস্থার অভাব; NRCS, Forest Service ও Bureau of Land Management-এর নীতি কিছুটা অনুকূল হাওয়া দিয়েছে।
Bell বলেন, "বাস্তব বেড়া সরিয়ে নির্ভুল পশুপালন চালু করলে খামারি ও জমির মালিককে মুনাফা আর পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের মধ্যে একটা বেছে নিতে হয় না; প্রযুক্তি দুটোকেই সমর্থন করে।"
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ





মন্তব্য
(০)