সিকিমের তিস্তা অববাহিকায় হিমবাহ হ্রদ ফেটে আসা বন্যার (জিএলওএফ) তিন বছর পূর্তিতে দুই লেখক বলছেন, ভারত হিমালয়ের হ্রদগুলোর ওপর নজর বাড়িয়েছে, কিন্তু পরের বিপর্যয়ের জন্য এখনো প্রস্তুত নয়। ডাউন টু আর্থে প্রকাশিত কলামটি লিখেছেন ইয়শোবন্ত পরিদা (Yashobanta Parida) ও জয়িতা রায় চৌধুরী; মতামত লেখকদের নিজস্ব।
২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর দক্ষিণ লোনাক হ্রদে বিশাল ভূখণ্ড ধসে পড়ে এই বন্যার সূত্রপাত হয়। ভারতের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতে ৫৫ জন মারা যান, ৭৪ জন নিখোঁজ হন, ৭,০২৫ জন বাস্তুচ্যুত হন এবং ১০০ গ্রামের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। সেতু, ভবন, সড়ক, কৃষিজমি এবং চুংথাংয়ে তিস্তা-৩ জলবিদ্যুৎ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়; সামাজিক, কৃষি, পর্যটন ও অবকাঠামো খাতে মোট ক্ষতি দাঁড়ায় ১,৪৮০.০৬৬ কোটি রুপি।
লেখকেরা নেচার কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক গবেষণার উল্লেখ করেছেন। তাতে ১৯০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বে ৬০৯টি এমন বন্যা এবং ১৩ হাজারের বেশি মৃত্যুর হিসাব রয়েছে; বছরে গড় ঘটনা ১৯৮১-৯০ দশকের ৫.২ থেকে বেড়ে ২০১১-২০ দশকে ১৫.২ হয়েছে। উষ্ণতায় হিমবাহ হ্রদ বড় হওয়া, ভূপ্রকৃতি এবং জলবিদ্যুৎকেন্দ্র, সড়ক ও বাঁধ নির্মাণকে এর কারণ বলা হয়েছে।
হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চল, যার মধ্যে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, চীন, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল ও পাকিস্তান রয়েছে, এই বিপদের কেন্দ্রবিন্দু। কৃষির ওপর বড় নির্ভরতা আর আগাম সতর্কব্যবস্থার ঘাটতিতে সেখানে ২৭ কোটি মানুষ ঝুঁকিতে আছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের এক প্রি-প্রিন্ট (এখনো সহকর্মী পর্যালোচিত নয়) অনুযায়ী অঞ্চলে প্রায় ৯,৬০০টি হিমবাহ হ্রদ রয়েছে এবং ১৮৩৩ থেকে ২০২৪ সালে প্রায় ৩৩৩টি হ্রদবন্যা হয়েছে; এর ৬০টি ভারতে, যেখানে মৃত্যু ৬,১১৯ জন, দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
নজরদারি বেড়েছে। কেন্দ্রীয় জল কমিশন ২০১১ সালে ৪৭৭টি বড় হ্রদ ও জলাশয় পর্যবেক্ষণ করত; ২০২৫ সালের জুনে তা দাঁড়িয়েছে ২,৪৮৫টি হিমবাহ হ্রদ ও ৩৫৮টি জলাশয়ে, যাদের মোট আয়তন এই সময়ে ২.১ শতাংশ বেড়েছে। সিকিমের পর কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৫ সালে অরুণাচল প্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ, সিকিম ও উত্তরাখণ্ডের জন্য জাতীয় হিমবাহ হ্রদবন্যা ঝুঁকি প্রশমন প্রকল্পে ১৫০ কোটি রুপি অনুমোদন দেয়। এতে সহনশীল অবকাঠামো, আগাম সতর্কবার্তা, ঝুঁকিপূর্ণ হ্রদের নিয়ন্ত্রিত পানি নিষ্কাশন ও আবহাওয়া কেন্দ্রের কথা আছে; সিকিমে এ পর্যন্ত দুটি স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া কেন্দ্র বসেছে।
এসব কাজ শেষ হতে সময় লাগবে বলে লেখকেরা এখনই কিছু অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ চান: রিয়েল টাইম নজরদারি ও সতর্কবার্তার আওতা বাড়ানো, ভাটির এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা, ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামে সচেতনতা, বিপজ্জনক এলাকায় হোটেল ও বসতি নির্মাণে বিধিনিষেধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ গবেষণায় বেশি ব্যয় এবং হিমালয়ের রাজ্যগুলোর জন্য একটি জাতীয় হ্রদবন্যা তথ্যভান্ডার।
ছবি: Vijayakumar Blathur / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ



মন্তব্য
(০)