“নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ভালো ফল করা ফসলের জাত কৃষকের খোলা মাঠে অনিশ্চিত পরিবেশের মধ্যে ব্যর্থও হতে পারে।” বিজ্ঞানী.অর্গকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কথাটি বলেছেন চীনের লানচৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বাংলাদেশি উদ্ভিদ গবেষক ড. শিরিন আক্তার। আলোচনার বিষয় ছিল বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জলাবদ্ধ ও লবণাক্ত জমির জন্য জলবায়ুসহিষ্ণু ফসল।
গবেষণাগার বা গ্রিনহাউসে আলো, পানি ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায়; কৃষকের জমিতে আজ রোদ তো কাল অতিবৃষ্টি, কোথাও লবণ, কোথাও দীর্ঘ জলাবদ্ধতা। বিজ্ঞানীরা তাই দেখেন কোন গাছের শিকড় গভীরে গিয়ে পানি ও পুষ্টি পায়, কোন গাছের কোষ অতিরিক্ত সোডিয়াম সামলাতে পারে, আর এসব বৈশিষ্ট্যের পেছনে কোন জিন কাজ করে।
কিন্তু ড. শিরিন একটিমাত্র জিনে সব সমাধান দেখেন না। একটি জাত লবণাক্ততা সহ্য করলেও কয়েক সপ্তাহ পানির নিচে থাকলে টিকতে না-ও পারে; পানি পেলেও অতিরিক্ত তাপে ফুল বা শস্যের ক্ষতি হতে পারে। তাই সম্ভাবনাময় জাতকে নানা এলাকায়, নানা বছরে পরীক্ষা করে দেখতে হয় ফলন, পাকার সময় এবং কৃষকের চাষপদ্ধতির সঙ্গে মিল কেমন। তাঁর কথায়, নিয়ন্ত্রিত জায়গায় জাত উদ্ভাবন প্রথম ধাপ; মাঠের ফলই বলে দেয় উদ্ভাবন মানুষের কাজে আসার মতো প্রস্তুত কি না।
বিজ্ঞানী.অর্গে প্রকাশিত একই সাক্ষাৎকারের আরেক অংশে তিনি বলেন, “শুধু জিনতত্ত্বই যথেষ্ট নয়।” জমিতে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকলে লবণসহিষ্ণু গাছের শিকড়ও দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকবে; খরাসহিষ্ণু জাতও চাষের জরুরি সময়ে একেবারে পানি না পেলে ফলন হারাতে পারে। বৃষ্টির পূর্বাভাস ও দূর অনুধাবনের তথ্য কাজে লাগে, তবে সেই সিদ্ধান্ত স্থানীয় মাটি ও কৃষকের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হয়।
ড. শিরিনের মতে, কৃষককে কেবল নতুন বীজের গ্রাহক ভাবলে চলবে না; কোন জমিতে বর্ষার পানি কত দিন থাকে, কোথায় শুষ্ক মৌসুমে লবণ বাড়ে, কখন রোগের লক্ষণ শুরু হয়, এসব পর্যবেক্ষণ গবেষণার প্রশ্ন ঠিক করতে সাহায্য করে। এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নে তিনি ভেজাল সার ও সরবরাহব্যবস্থার অনিয়মের কথাও তোলেন: ভালো বীজ কিনেও মানসম্মত সার না পেলে কৃষকের পরিশ্রম নষ্ট হতে পারে, তাই সার পরীক্ষা ও বাজার তদারকিও জরুরি।
সূত্র: বিজ্ঞানী.অর্গ



মন্তব্য
(০)