বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলায় একদল তরুণ কৃষিবিদ মাটিবিহীন কোকোপিট ও প্লাস্টিক ট্রেতে সুস্থ-সবল চারা তৈরি করছেন। পাশাপাশি পলিশেড, মালচিং পেপার, ফগিং ও ড্রিপ সেচ ব্যবহার করে তাঁরা বাণিজ্যিকভাবে উচ্চমূল্যের বিষমুক্ত সবজি চাষ করছেন।
সমস্যাটি পুরোনো: জলবায়ু পরিবর্তন আর কৃষিজমি কমে যাওয়ায় খোলা মাঠে অসময়ে সবজি আবাদ ঝুঁকিপূর্ণ। উদ্যোক্তাদের একজন কৃষিবিদ মুশফিকুর রহমান জানান, পলিশেড বা গ্রিনহাউস প্রযুক্তি পরিবেশকে কৃত্রিমভাবে অনুকূলে রাখার সুযোগ দেয়। তাঁদের শেডে ফগিং ও স্প্রিংকলার চালু রাখলে দুই থেকে চার মিনিটে ভেতরের তাপমাত্রা সাত থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যায়, ফলে প্রচণ্ড গরম বা অতিবৃষ্টির ক্ষতি এড়িয়ে যেকোনো সময়ে কাঙ্ক্ষিত সবজি আবাদ করা যায়।
শেডের ভেতরে মাটির ওপর ২৫ মাইক্রন পুরুত্বের মালচিং পেপার বিছিয়ে হাইব্রিড শসা ও স্কোয়াশ চাষ হচ্ছে। কাগজটির এক পাশে রুপালি, অন্য পাশে কালো প্রলেপ; এটি আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং সরাসরি রোদ মাটিতে পড়তে দেয় না। উদ্যোক্তাদের তথ্যমতে, এতে আগাছা জন্মায় না, সেচের পানির অপচয় কমে, একবার সার দিলেই পুরো মৌসুম চলে, আর একটি মালচিং পেপার এক থেকে দুই বছরে দুই থেকে তিনটি ফসলের মৌসুম পার করে।
পোকা ঠেকাতে পুরো অবকাঠামো ইনসেক্ট নেটে ঘেরা, ভেতরে ঝোলানো আছে আঠাযুক্ত হলুদ ফাঁদ। ছত্রাক ও মাটির রোগ দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে জৈব অণুজীব ট্রাইকোডার্মা। উদ্যোক্তাদের দাবি, এ কারণে চাষে কোনো রাসায়নিক বা কীটনাশক লাগে না।
মুশফিকুর রহমান কৃষিতে উচ্চশিক্ষা শেষে একটি সংস্থায় চাকরি করতেন। কৃষিশিক্ষায় শিক্ষিত তরুণদের মাঠের ব্যবসায় সম্পৃক্ততা কম দেখে, বিশ্বে প্রচলিত আধুনিক প্রযুক্তিকে দেশের আবহাওয়া ও কৃষকের সামর্থ্যের উপযোগী করার লক্ষ্যে ২০২০ সালের জুনে তিনি চাকরি ছেড়ে উদ্যোগটি গড়ে তোলেন। আরেক উদ্যোক্তা মো. শাকিল আহমেদ জানান, তাঁদের জার্মপ্লাজম সেন্টারের মূল লক্ষ্য কৃষকের কাছে সঠিক জাতের সুস্থ ও রোগমুক্ত চারা পৌঁছে দেওয়া। সে জন্য তাঁরা সিডলিং ট্রে, মালচিং পেপার, তৈরি কোকোপিট, ভার্মিকম্পোস্ট, ট্রাইকোকম্পোস্ট ও জৈব বালাইনাশকও সরবরাহ করছেন।
ছাদবাগান ও বাণিজ্যিক সবজি চাষে আগ্রহীদের জন্য খামারটি ড্রিপ ও হাইড্রোপনিক্স সেবা দিচ্ছে। মুশফিকুর রহমানের ভাষ্য, হাইড্রোপনিক্সে এক লিটার পুষ্টি দ্রবণ ১০০ লিটার পানিতে মিশিয়ে দীর্ঘ সময় সবজি আবাদ করা যায় এবং মাটিতে চাষের তুলনায় ফসল অর্ধেকেরও কম সময়ে পরিপক্ব হয়। বাঁশের ফ্রেমে সাশ্রয়ী শেড তৈরি এবং ছাদবাগানের ওজন সামলানোর কারিগরি সেবাও দিচ্ছে দলটি।
প্রতিবেদনটি এগ্রি বার্তা দিনাজপুরটিভির সূত্রে প্রকাশ করেছে।
সূত্র: এগ্রি বার্তা





মন্তব্য
(০)