পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরসভার শরৎনগর পশুর হাট এ অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতির এক প্রাণকেন্দ্র। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলায় সবচেয়ে বেশি পশু বেচাকেনা হয় এই হাটে। আগে হাট বসত শুধু শনিবার, এখন চাহিদার কারণে বসে সপ্তাহে দুই দিন, শনি ও বুধবার।
হাটে বিক্রি হয় দেশি মাঝারি ও বড় গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। স্থানীয় খামারিদের পাশাপাশি আশপাশের জেলা থেকেও পাইকার ও খামারিরা আসেন। হাটের শুরুর সঠিক সাল জানা না গেলেও স্থানীয় প্রবীণদের মতে, পাকিস্তান আমলের আগে থেকেই এখানে হাট ছিল।
স্থানীয় ব্যবসায়ী খন্দকার মোহাম্মদ বাচ্চু মণ্ডল বলেন, ৫০ বছর আগেও তাঁর বাবা এই ব্যবসায় ছিলেন। তখন বড়াল নদ দিয়ে নৌকা বোঝাই করে গরু আসত। নদী এখন মরা খালে পরিণত হওয়ায় আর সড়কপথের উন্নতিতে নৌকা চলাচল প্রায় বন্ধ; পশু আসে মিনিট্রাক, নছিমন ও পিকআপে। হাটে গরুর পাশাপাশি ছাগল, হাঁস-মুরগি, মাছ ও সবজিও ওঠে, অন্য দিনে বসে পাটের হাট।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাটে মহিষের উপস্থিতি বাড়ছে। সংখ্যা খুব বেশি না হলেও ঢাকাসহ বড় শহরে মহিষের মাংসের চাহিদা বাড়ায় এর কদর বাড়ছে। কোরবানির ঈদের আগে হাটের পরিধি বহুগুণ বেড়ে যায়।
সম্প্রতি হাট থেকে দুটি বাছুর সাড়ে ৫৭ হাজার টাকায় কিনেছেন খামারি আবদুল জব্বার। তিনি বলেন, দেশি গরুর প্রতি মানুষের আস্থা বেশি। হাটকে ঘিরে চলে খাবারের ব্যবসাও; প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে দোকান চালানো মো. সোহেল জানান, হাটে প্রায় ২০টি খাবারের দোকান আছে এবং হাটবারে প্রতিটি দোকানে ৬০ থেকে ৯০ কেজি পর্যন্ত গরুর মাংস বিক্রি হয়।
ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)