যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরির (University of Missouri) কলাম্বিয়া ক্যাম্পাসের স্যানবর্ন ফিল্ডের (Sanborn Field) মাটিতে ১৮৮০-এর দশক থেকে সালফারের মাত্রা ধারাবাহিকভাবে কমেছে। এমইউ এক্সটেনশনের রাজ্য মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ গুরবীর সিং (Gurbir Singh)-এর নেতৃত্বে করা এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে, যা মিসৌরির ফসলি জমিতে সালফারের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।
গবেষকেরা ১৮৮৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত স্যানবর্ন ফিল্ড থেকে সংগ্রহ করা মাটির নমুনা বিশ্লেষণ করেছেন। ৪৮ ইঞ্চি গভীরতা পর্যন্ত পুরো মাটির স্তরে গড় সালফার ১৮৮৮ সালে ছিল একরপ্রতি ৮০৭ পাউন্ড, ২০২০ সালে তা নেমে এসেছে ২৩২ পাউন্ডে। অর্থাৎ কমেছে ৭০ শতাংশের বেশি।
গুরবীর সিংয়ের মতে, এর পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করেছে: বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইনের পর বাতাস থেকে মাটিতে সালফার জমা কমে যাওয়া, ফসল কাটার সঙ্গে জমি থেকে সালফার চলে যাওয়া, সালফার মাটির আরও গভীরে নেমে যাওয়া এবং সালফারবিহীন বা কম সালফারযুক্ত সারের ব্যাপক ব্যবহার।
জমি কীভাবে চাষ হয়েছে, তাতেও বড় পার্থক্য দেখা গেছে। ভুট্টা, গম ও লাল ক্লোভারের আবর্তনে যেসব প্লটে গোবর সার দেওয়া হয়েছে, সেগুলোতে টানা একই ফসলের জমির চেয়ে অনেক বেশি সালফার রয়ে গেছে। ২০২০ সালে গোবর ও নাইট্রোজেনসহ ভুট্টা-গম-লাল ক্লোভার আবর্তনের প্লটে মূল সালফারের প্রায় ৭৫ শতাংশ টিকে ছিল, আর কিছু টানা গমের প্লটে টিকে ছিল ১০ শতাংশেরও কম।
গবেষকদের উপসংহার, ফসলের চাহিদা মেটাতে চাষিরা আর বাতাস থেকে আসা সালফারের ওপর নির্ভর করতে পারবেন না; সালফারকে সার ব্যবস্থাপনার পরিকল্পিত অংশ করতে হবে। তাঁরা নিয়মিত মাটি ও গাছের টিস্যু পরীক্ষা, ফসলের সঙ্গে জমি থেকে কতটা সালফার চলে যায় তার হিসাব রাখা এবং প্রয়োজনে সালফারযুক্ত সার বা গোবর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। সঙ্গে নির্ভুল প্রয়োগ প্রযুক্তি ও শস্য আবর্তনে বেশি মনোযোগ দেওয়ার কথাও বলেছেন।
গবেষণায় একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্ষেপণও আছে: বর্তমান ধারা চললে সালফার আরও কমতে পারে। তবে ভবিষ্যতে সালফার কতটা পাওয়া যাবে, তা আবহাওয়া, ফসল ব্যবস্থাপনা, মাটির অবস্থা ও সার ব্যবহারের ধরনের ওপর নির্ভর করবে বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন।
শস্য আবর্তন ও গোবর সারের উপকারিতা দেখাতে জে. ডব্লিউ. স্যানবর্ন ১৮৮৮ সালের শেষ দিকে স্যানবর্ন ফিল্ড প্রতিষ্ঠা করেন। মিসিসিপি নদীর পশ্চিমে এটিই সবচেয়ে পুরোনো চলমান পরীক্ষামূলক মাঠ, বিশ্বে তৃতীয়। এর ৩৮টি প্লটের অনেকগুলোতে আজও ১৮৮৮ সালের আবর্তনই চলছে। পুরো প্রতিবেদনটি এমইউ এক্সটেনশন প্রকাশ করেছে।
ছবি: Iwtwb8 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Morning Ag Clips





মন্তব্য
(০)