গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে গোয়ালঘর, খামার আর উঠানে প্রতিদিন গোবর জমলেও সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত না হওয়ায় তা জৈব সার হিসেবে জমিতে পৌঁছাচ্ছে না। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের হিসাবে উপজেলায় বছরে প্রায় ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪০ টন গোবর ও পশুর মল হয়, অথচ প্রক্রিয়াজাত জৈব সার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ৭০ হাজার টন।
কৃষি বিভাগ জানায়, উপজেলায় বছরজুড়ে ১৭ হাজার ৯৩৫ হেক্টর জমিতে ফসল চাষ হয়, যার জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টন প্রক্রিয়াজাত গোবর দরকার। প্রায় ৬০ হাজার টনের এই ঘাটতি পূরণে বছরে বাড়তি ৭০০ টন ইউরিয়া, ৩০০ টন এমওপি ও ২০০ টন টিএসপি লাগছে, যার দাম প্রায় ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
উপজেলায় গরু আছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ২৩৬টি, ছাগল ৯৭ হাজার ৩২৬টি ও ভেড়া ৫ হাজার ৭১৯টি। অনেক কৃষক কাঁচা গোবর সরাসরি জমিতে দেন, কেউ শুকিয়ে জ্বালানি বানান, কেউ পুকুরে মাছের খাবার হিসেবে দেন। ইসলামপুরের জাহিদুল ইসলাম, ছাইগাড়ীর জোবেদ আলী ও জয়েনপুরের মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গোবর সঠিক পদ্ধতিতে তৈরি হচ্ছে কি না, তাঁরা জানেন না; এ নিয়ে কোনো প্রশিক্ষণ পাননি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তানভিক জাহান বলেন, গোবর সংরক্ষণে সরকারি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নেই, মজুত রেখে বিক্রির বাজারও নেই। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্টাচার্য জানান, হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের বরাদ্দ নেই, তবে কৃষক গ্রুপের আলোচনায় বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করা হয়।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের পরামর্শ, কাঁচা গোবর মজবুত ছাউনির নিচে ছায়ায় রাখতে হবে, যাতে পানি ও কড়া রোদ না লাগে; সামান্য ইউরিয়া ছিটালে দ্রুত পচে জৈব সার হয়। বায়োগ্যাস প্লান্টে ব্যবহারের পর পাওয়া গোবরও ভালো জৈব সার। উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রব সরকার বলেন, গোবর মাটির গঠন ও পানি ধারণক্ষমতা বাড়ায় এবং দীর্ঘদিন রাসায়নিক সার ব্যবহারের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।
উপজেলা কৃষক সমিতির সভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, শুধু সাদুল্লাপুরেই ১,২০০ টন রাসায়নিক সার সাশ্রয় করা গেলে সব উপজেলায় সঠিক গোবর ব্যবস্থাপনা চালু করে বড় অঙ্কের অর্থ বাঁচানো সম্ভব; এ জন্য কৃষক ও খামারিদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দরকার।
ছবি: Melanie Ko / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)