গাছের মূলের ভেতরে কোনো ক্ষতি না করে বাস করে এমন একটি ব্যাকটেরিয়া গম, রেপসিড ও টমেটোসহ পাঁচটি উদ্ভিদ প্রজাতির খরা সহ্য করার ক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। গত ১৪ আগস্ট নেচার প্ল্যান্টস সাময়িকীতে অনলাইনে প্রকাশিত এই গবেষণার খবর দিয়েছে গ্লোবাল এগ্রিকালচার। জার্মানির গটিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আলব্রেখট-ফন-হালার উদ্ভিদবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সালমা বালাজাদেহর নেতৃত্বে গবেষকেরা দেখিয়েছেন, ব্যাকটেরিয়াটি মূলের ভেতরে একটি হরমোন সংকেতপথ চালু করে দেয়।
এ ধরনের জীবাণুকে বলা হয় এন্ডোফাইট, যারা গাছের কোষে বাসা বাঁধে এবং সাধারণত গাছের উপকার করে। ইউরোপ, এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার দুই ডজনের বেশি সহলেখকের এই দলটি নেদারল্যান্ডসের লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অণুজীববিজ্ঞানী জস রাইমেকার্সের দেওয়া ব্যাকটেরিয়ার সংগ্রহ থেকে ফ্লাভো৯৮ নামের স্ট্রেনটি আলাদা করে। গবেষণাগারে পলিইথিলিন গ্লাইকল ও কম আর্দ্রতার আগার দিয়ে খরার অবস্থা তৈরি করে মডেল উদ্ভিদ অ্যারাবিডপসিসে পরীক্ষা চালানো হয়। ব্যাকটেরিয়া দেওয়া গাছে মূলরোম অনেক বেশি গজায়; মূলের এই সূক্ষ্ম রোমগুলোই মাটি থেকে পানি ও পুষ্টি টানার ক্ষমতা বাড়ায়।
জিনগত বিশ্লেষণে দুই ধাপের একটি শৃঙ্খল ধরা পড়েছে: ব্যাকটেরিয়াটি ইথিলিন-সংশ্লিষ্ট দুটি জিন, ইআরএফ১১৫ ও ইআরএফ১১৪ চালু করে, সেগুলো আবার সিইপি৫ নামের একটি ছোট সংকেতবাহী প্রোটিন সক্রিয় করে। এরা মিলে পানির অভাবের সময়েই মূলের কোষকে বেশি ও লম্বা মূলরোম তৈরির নির্দেশ দেয়। ব্যাকটেরিয়া দেওয়া অ্যারাবিডপসিসের প্রায় ৮৫ শতাংশ খরা ও পরে পানি দেওয়ার ধাক্কা সামলে বেঁচে যায়, যেখানে ব্যাকটেরিয়া ছাড়া গাছ প্রায় বাঁচেইনি; বেঁচে যাওয়া গাছে বীজও হয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, আর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মূলরোম তৈরি করা কোষের অনুপাত প্রায় দ্বিগুণ হয়।
শুধু মডেল উদ্ভিদের ফল কৃষিতে সরাসরি খুব কাজে আসে না, তাই দলটি গম, রেপসিড, ক্যামেলিনা ও টমেটোতে একই পরীক্ষা করে এবং চার ফসলেই একই প্রক্রিয়া ও প্রায় সমান খরা-সহনশীলতা পায়। এই মিল ইঙ্গিত দেয়, পথটি ফুলধারী উদ্ভিদে ব্যাপকভাবে সংরক্ষিত, ফলে উদ্ভিদ প্রজননবিদ ও জৈব কৃষি উপকরণ নির্মাতাদের জন্য এটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য।
গবেষকেরা অবশ্য স্পষ্ট করেছেন, মাঠে খরা সহনশীলতা বহু জিন ও প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে, এই একটি পথ দিয়ে ফসলকে খরামুক্ত করা যাবে না। পরের ধাপে তাঁরা দেখবেন প্রজনন কর্মসূচিতে সরাসরি ইআরএফ-সিইপি৫ অংশটি সূক্ষ্মভাবে বদলানো যায় কি না, নাকি ফ্লাভো৯৮ ব্যাকটেরিয়াকেই বীজ বা মাটিতে প্রয়োগের জৈব পণ্য বানানো যায়, যাতে ফসলের জিন না বদলেই একই সুফল মেলে। গ্লোবাল এগ্রিকালচারের মতে, অনিয়মিত বর্ষার কারণে খরা মোকাবিলার উপকরণের চাহিদা যেখানে এখনই বেশি, সেই ভারতের মতো বৃষ্টিনির্ভর গম, তেলবীজ ও সবজির এলাকা এমন পণ্যের প্রথম বাজার হতে পারে।
ছবি: Megan Gerber / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)