নিউজিল্যান্ডের গ্রামীণ ওয়াইরারাপা অঞ্চলের গ্লেনবার্ন স্টেশনে জুন মাসে পাশের খামার থেকে ছুটে আসা দুটি কুকুরের হামলায় ৪৩টি ভেড়ার বাচ্চা মারা যায়। আরও চারটি এত গুরুতর আহত হয় যে সেগুলোকে মেরে ফেলতে হয়, একটির খোঁজ এখনো মেলেনি। লোকাল ডেমোক্রেসি রিপোর্টিংয়ের বরাতে খবরটি দিয়েছে ফার্মার্স উইকলি এনজেড। স্টেশন ব্যবস্থাপক ল্যাকি ম্যাকফ্যাডজিন (Lachie McFadzean) বলেন, এমন দৃশ্য কোনো খামারি জীবনে দেখতে চান না, আর এটি দায়িত্বশীলভাবে কুকুর পোষার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়।
খামারে ধরা পড়ে গুলি খাওয়ার আগে কুকুর দুটি প্রায় তিন দিন ধরে বাড়ি থেকে নিখোঁজ ছিল। ম্যাকফ্যাডজিন বলেন, ক্ষত দেখেই বোঝা যাচ্ছিল কয়েক দিন ধরে হামলা চলছিল; বাচ্চাগুলোকে তাড়া করে খাদে নিয়ে মারা হয়েছে, কাদায় ডুবে মরেছে কয়েকটি। তাঁর অভিযোগ, মালিক জানতেন কুকুর দুটি নিখোঁজ, পরে স্বীকারও করেন যে ঘেউ ঘেউ শুনেছিলেন।
কার্টারটন ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল ১৯৯৬ সালের কুকুর নিয়ন্ত্রণ আইনে মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করে, আর কাউন্সিলের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বিমাসংক্রান্ত খরচসহ আর্থিক ক্ষতির জন্য গ্লেনবার্ন স্টেশনকে ৫ হাজার এবং মানসিক কষ্টের জন্য আরও ২ হাজার নিউজিল্যান্ড ডলার দিতে তাঁকে আদেশ দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিল একে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম গুরুতর কুকুর নিয়ন্ত্রণ মামলা বলছে, আর তাঁর কুকুর রাখার ওপর আইনে যত দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা সম্ভব, তা চাইছে।
ক্ষতি শুধু মৃত বাচ্চাগুলোতে সীমাবদ্ধ নয়। ১২০টির ওই দলের বেঁচে যাওয়া বাচ্চাগুলো এখন আর বাড়ন্ত অবস্থায় বিক্রির উপযুক্ত নয়, তাই খামারেই মোটাতাজা করা হবে, আর শেষ পণ্য হিসেবে দাম অনেক কম পাওয়া যাবে। বিমা দিয়েছে শুধু মৃত বাচ্চাগুলোর জন্য, তাও বর্তমান বাজারদরে প্রতিটি ২০০ ডলার ধরে, ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য দামে নয়।
গ্রামের কুকুর মালিকদের প্রতি ম্যাকফ্যাডজিনের পরামর্শ সোজা: কুকুর হারালে খুঁজতে বের হোন, না পেলে প্রতিবেশীদের জানান, আর দেখাশোনা করতে না পারলে কুকুর রাখবেন না। কাউন্সিলের পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণ সেবা ব্যবস্থাপক সলিটেয়ার রবার্টসন বলেন, ঘুরে বেড়ানো কুকুরের খবর আগেভাগে ও গোপনে জানালে বড় হামলার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন এমিলি আয়ারল্যান্ড।
ছবি: Pam / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly NZ




মন্তব্য
(০)