বিশ্ব নদী দিবসে দেশের নদ-নদীর দখল ও দূষণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ জানিয়েছেন গবেষকেরা। তাঁদের মতে, শিল্পবর্জ্য, নৌযানের তেল ও দখলের চাপে নদী শুধু জলজ প্রাণের জন্যই নয়, মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি হয়ে উঠছে।
ধলেশ্বরীর তীরের চরকুন্দনিয়া গ্রামের ষাটোর্ধ্ব দিলবর হোসেন ছোটবেলা থেকে এই নদীতে মাছ ধরেন। একসময় এক রাতেই ১০-১৫ হাজার টাকার মাছ পেতেন বলে জানান তিনি। বোয়াল, আইড়, শোল, রুই, কাতলা, গলদা, জাটকাসহ বহু মাছের নাম করে তাঁর কথা, ‘এখন মাছ নাই। সব মাছই কমতি।’ শুষ্ক মৌসুমে বুড়িগঙ্গা থেকে আসা পচা পানিতে মাছ মরে ভেসে ওঠে বলেও জানান তিনি।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের হিসাবে দেশে নদীর সংখ্যা ১ হাজার ৮। কমিশনের ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা ও আশপাশের ১১টি শিল্পাঞ্চলে ৭ হাজার কারখানার বর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা নেই, আর প্রতিদিন প্রায় ৬০ হাজার ঘনমিটার টেক্সটাইল, ডাইং, প্রিন্টিং ও ওষুধশিল্পের বর্জ্য খাল ও নদীতে পড়ে। ধলেশ্বরীতে ট্যানারির বর্জ্যে উচ্চমাত্রার ক্রোমিয়াম থাকার কথাও প্রতিবেদনে আছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. খালিকুজ্জামান বলেন, তাঁরা নদীর পানিতে ক্রোমিয়াম পেয়েছেন। কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরীর ভাষায়, দূষিত পানি ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়, টাইফয়েড ও হেপাটাইটিসের মতো পানিবাহিত রোগের কারণ, আর নদী যত বিপর্যস্ত হচ্ছে, ঝুঁকি তত বাড়ছে।
মেঘনার বেশি খাওয়া ১৫টি মাছ নিয়ে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও চীনের সাতজন গবেষকের একটি গবেষণা ২০২৩ সালে প্রকাশিত হয়। তেলাপিয়া, কই, রুই, কাতলা, পাবদা, কোরালসহ এসব মাছে লোহা, দস্তা, তামা, পারদ ও নিকেলের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। তবে দূষিত নদীর মাছ খেয়ে কেউ নির্দিষ্ট কোনো রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, এমন গবেষণা পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটিও উঠে এসেছে। ২০১৯ সালে রাজবাড়ী ও টাঙ্গাইলের ৬১১ পরিবারের ওপর জরিপ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দেখেন, নদীভাঙনের শিকার ৫০৯ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।
মৎস্যজীবী ও নদীনির্ভর কৃষকের জীবিকা সরাসরি এসব নদীর ওপর নির্ভর করে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন প্রথম আলোর শিশির মোড়ল।
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)