ধান কাটার পর মাঠে পড়ে থাকা খড় পুড়িয়ে না ফেলে তা দিয়ে মাশরুম চাষ ও জৈব সার তৈরির ব্যবসা দাঁড় করিয়েছে ভিয়েতনামের মেকং বদ্বীপের একটি ধানচাষি সমবায়। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইরি) এই অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছে সিজিআইএআর।
সমস্যাটি পুরোনো: প্রতি মৌসুমে খড়ের স্তূপ জমে, যার বেশির ভাগ পুড়িয়ে ফেলা হতো, কিছু প্লাবিত জমিতে মিশিয়ে দেওয়া হতো, তাতে মাটি ও পানির মান খারাপ হতো। ২০২৩ সালে সাত সদস্য নিয়ে গড়া নিউ গ্রিন ফার্ম সমবায়ের পরিচালক ডং ভান কান (Dong Van Canh) প্রথম ভরসা পান একটি যন্ত্র দেখে। ইরি ও তার অংশীদারদের মাধ্যমে তাঁরা যন্ত্রচালিত খড়-কম্পোস্ট পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হন, যেখানে কম্পোস্ট টার্নার যন্ত্র অল্প শ্রম ও সময়ে বিপুল খড় প্রক্রিয়া করে। কাজটি হয়েছে মেকং-কোরিয়া প্রজাতন্ত্র সহযোগিতা তহবিলের অর্থায়নে রাইসইকো (RiceEco) প্রকল্পের আওতায়।
এখন সমবায়টি তু সাং মেশিনারির যন্ত্রে খড় বেল করে সংগ্রহ করে, তাজা খড়ে মাশরুম চাষ করে, আর মাশরুম তোলার পর বাকি খড়ের সঙ্গে ধানের তুষের ছাই, নারকেলের ছোবড়া ও গোবর মিশিয়ে জৈব সার বানায়, যা আবার ধান, ফলগাছ ও সবজিতে দেওয়া হয়। প্রায় ১০০টি ধানচাষি পরিবারের ১৪৮ হেক্টর জমির সঙ্গে সমবায়টির উৎপাদন-সংযোগ আছে। মাশরুমের জায়গা ২ হাজার বর্গমিটার থেকে বেড়ে বাইরে প্রায় ৮ হাজার বর্গমিটার হয়েছে, কম্পোস্টের জন্য আছে আরও ২ হাজার বর্গমিটার।
আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ এখনও ধান থেকে, প্রায় ৩০ শতাংশ মাশরুম থেকে, বাকিটা কম্পোস্ট, সবজি ও অন্য ফসল থেকে। বছরে প্রায় ৯ হাজার খড়ের বেলে মাশরুম চাষ হয়; বেলপ্রতি আনুমানিক ০.৩৮ ডলার লাভে বছরে প্রায় ৩,৪০০ ডলার। বছরে প্রায় ৭২ টন কম্পোস্ট টনপ্রতি ৩৮ ডলার লাভে আরও প্রায় ২,৭০০ ডলার আনে।
ধান চাষের খরচও কমেছে। খড়ভিত্তিক জৈব সার ও উন্নত মানের কম-নিঃসরণ চাষপদ্ধতি একসঙ্গে ব্যবহারে রাসায়নিক নাইট্রোজেন সার ৪০ শতাংশ কমেছে, সার ও কীটনাশকে হেক্টরপ্রতি মৌসুমে ১৫ থেকে ১৭ লাখ ভিয়েতনামি ডং (৫৭–৬৫ ডলার) সাশ্রয় হয়েছে, আর খড় বিক্রি করে ফসলপ্রতি হেক্টরে বাড়তি আয় ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ ডং (১৩–১৫ ডলার)। সমবায়ের এলাকায় খড় পোড়ানো আনুমানিক ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কমেছে।
তবে প্রবৃদ্ধির সঙ্গে নতুন বাধাও এসেছে। মাশরুম চাষে আগেই টাকা লাগে, অথচ কম্পোস্ট পাকতে ও বিক্রি হতে সময় নেয়; বড় গুদাম না থাকায় মৌসুমের চাপে পর্যাপ্ত খড়ও জোগাড় হয় না। কানের মতে, পরের ধাপে প্রশিক্ষণের চেয়েও বেশি দরকার সাশ্রয়ী ঋণ, যন্ত্র ও সংরক্ষণ অবকাঠামো। ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় রাইসইকো প্রকল্প ৫,০৮৪ জন কৃষক ও অংশীজনের কাছে পৌঁছেছে এবং চারটি ব্যবসা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করতে সহায়তা করেছে। প্রতিবেদনটি ইরি ভিয়েতনামের।
সূত্র: CGIAR





মন্তব্য
(০)