গুজরাটের জামনগর। একদিকে বিশ্বের অন্যতম বড় তেল শোধনাগার, অন্যদিকে সবুজে ঘেরা বিশাল এক প্রাণী-আশ্রয়। নাম ভান্তারা বা বনতারা। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের এই বন্যপ্রাণী উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানি। আহত, নির্যাতিত, অনাথ ও বিপন্ন প্রাণীদের উদ্ধার করে চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার জন্য তিনি তৈরি করেছেন এই বিশাল প্রকল্প।
বনতারা আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সামনে আসে। তবে এর পেছনের কাজ আরও আগে থেকে চলছিল। অনন্ত আম্বানির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগকে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ভারতের অন্যতম বড় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরে। ২০২৫ সালের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বনতারা উদ্বোধন করেন।
বর্তমানে বাংলাদেশের গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া রেমুর আম্বানির বনতারায় রয়েছে এমন খবর সামনে আসতেই শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে সবচেয়ে চমকে যাওয়ার মতো তথ্য হচ্ছে এর আয়তন। প্রাথমিক সময়ে বনতারার আয়তন প্রায় ৩ হাজার একর হিসেবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। বর্তমানে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী পুরো উদ্যোগটি ৩ হাজার ৫০০ একরেরও বেশি এলাকায় বিস্তৃত। এর মধ্যে আলাদা করে হাতিদের জন্য প্রায় ৯৯৮ একর সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে।
বিস্ময়ের এখানেই শেষ নয়। এখানকার প্রাণীর সংখ্যাও আরেক বিস্ময়। বনতারার বর্তমান ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এখানে ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি প্রাণী রয়েছে, যেগুলো ২ হাজারেরও বেশি প্রজাতির প্রতিনিধিত্ব করে। প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে স্তন্যপায়ী, পাখি, সরীসৃপসহ নানা ধরনের বন্যপ্রাণী।
বনতারার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর প্রাণীর বৈচিত্র্য। এখানে এশীয় সিংহ, আফ্রিকান সিংহ, বাঘ, চিতা, হাতি, জলহস্তী, জিরাফ, জেব্রা, ওকাপি, ওরাংওটাং, লেমুর, কুমির, বিভিন্ন প্রজাতির অজগর ও অন্যান্য সরীসৃপ রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া রয়েছে ক্লাউডেড লেপার্ড বা মেঘলা চিতা। এই রহস্যময় বড় বিড়াল প্রজাতি আবাসস্থল হারানোসহ নানা কারণে হুমকির মুখে। ভান্তারায় ক্লাউডেড লেপার্ডের শাবকও দেখা গেছে। সাদা সিংহের শাবকও ভান্তারার অন্যতম আলোচিত প্রাণী।
হাতিদের জন্য রয়েছে চিকিৎসা, পুনর্বাসন, প্রশিক্ষণ ও বিশ্রামের বিশেষ ব্যবস্থা। বনতারায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাতি হাসপাতাল রয়েছে বলে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন দাবি করে। সেখানে আধুনিক চিকিৎসার পাশাপাশি হাইপারবারিক চেম্বার, হাইড্রোথেরাপি, লেজার থেরাপি ও অন্যান্য চিকিৎসা সুবিধার কথাও তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমনকি বনতারা শুধু নিজেদের এলাকায় প্রাণী রাখার মধ্যেও সীমাবদ্ধ নেই। ২০২৬ সালে গুজরাটের বন্নি তৃণভূমিতে কালো হরিণ পুনঃস্থাপনসহ বিভিন্ন পুনর্বন্যায়ন প্রকল্পেও অংশ নিয়েছে। তবে এত বড় প্রকল্প ঘিরে প্রশ্নও উঠেছে। প্রাণী সংগ্রহ ও স্থানান্তর নিয়ে বিতর্কের পর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। তদন্তে বেআইনি প্রাণী সংগ্রহ বা নির্যাতনের অভিযোগের চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে রয়টার্স জানিয়েছে, তবে প্রাণী সংগ্রহের প্রক্রিয়া ও কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল।
সূত্র: বানতারা ওয়েবসাইট





মন্তব্য
(০)