সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩৪°হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনাআর্দ্রতা ৫২%বাতাস ৬ কিমি/ঘবৃষ্টি ০.২ মিমি

গরুর বদলে অটোরিকশার যন্ত্রাংশ: রাজবাড়ীতে কাঠের ঘানিতে সরিষার তেলে নতুন প্রযুক্তি

রাজবাড়ী সদরের চন্দনীর বাচ্চুমিয়া গরুর বদলে অটোরিকশার যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি ঘূর্ণন ব্যবস্থায় কাঠের ঘানি চালাচ্ছেন; এতে শ্রম ও সময় কমেছে, একেকটি ঘানিতে দিনে ৩০-৩৫ কেজি সরিষা থেকে ৮-১০ কেজি তেল মিলছে।

এগ্রোটেক

গরুর চোখ বেঁধে কাঠের ঘানি ঘুরিয়ে সরিষার তেল তৈরির দৃশ্য গ্রামবাংলা থেকে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই ঘানিকেই নতুন প্রযুক্তিতে সচল রেখেছেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী এলাকার বাচ্চুমিয়া। গরুর বদলে অটোরিকশার যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি ঘূর্ণন ব্যবস্থায় এখন তাঁর ঘানি ঘোরে, আর ভেতরে থাকে পুরোনো সেই কাঠের ঘানিই।

বাচ্চুমিয়ার পরিবারে বাপ-দাদার আমল থেকে ঘানিতে সরিষার তেল তৈরির চল। দীর্ঘদিন গরু দিয়েই ঘানি ঘোরানো হতো; কয়েক বছর আগে তিনি পদ্ধতিটি বদলান। অটোরিকশার বিভিন্ন অংশ বিশেষ কায়দায় বসিয়ে বানানো হয়েছে ঘূর্ণন ব্যবস্থা। বিদ্যুৎ বা মোটরে সেটি চালু করলে ঘানি নিজে থেকেই ঘুরতে থাকে।

তাঁর বাড়িতে টিনশেডের নিচে পাশাপাশি এমন তিনটি ব্যবস্থা বসানো, প্রতিটির মাঝখানে একটি কাঠের ঘানি। সরিষা দেওয়ার পর যন্ত্র ঘুরতে থাকে, কাঠের ঘানির চাপে সরিষা থেকে তেল বেরিয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় পাত্রে জমে। ঘানির সঙ্গে যুক্ত কলুদের ভাষায়, ঐতিহ্য রাখা হয়েছে, বদলেছে শুধু ঘানি ঘোরানোর শক্তির উৎস।

কলুরা জানান, গরু দিয়ে ঘানি চালাতে একজন মানুষকে প্রায় সারাক্ষণ পাশে থাকতে হয়: গরুকে নির্দিষ্ট বৃত্তে ঘোরানো, নিয়ন্ত্রণ করা, পুরো প্রক্রিয়া দেখা। এতে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি লাগে। গরুর চোখ ঢেকে ঘানি ঘোরানোকেও পরিবারের অনেকে এখন আর স্বাভাবিকভাবে নিতে চান না। নতুন ব্যবস্থায় সেই শ্রম অনেকটাই কমেছে।

প্রতিবেদনের হিসাবে, একেকটি ঘানিতে সারা দিনে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কেজি সরিষা ভাঙিয়ে ৮ থেকে ১০ কেজি তেল পাওয়া যায়। তিনটি ঘানি চালু থাকলে দিনে ৯০ থেকে ১০৫ কেজি সরিষা থেকে আনুমানিক ২৪ থেকে ৩০ কেজি তেল হতে পারে; তবে আসল পরিমাণ সরিষার জাত, আর্দ্রতা, মান, ঘানির কার্যক্ষমতা ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো উৎপাদনই থেমে যায়, এটিই নতুন পদ্ধতির নতুন চ্যালেঞ্জ।

আধুনিক তেলকল আর বোতলজাত ভোজ্যতেলের বিস্তারে ছোট কাঠের ঘানির সংখ্যা কমেছে, সঙ্গে হারাতে বসেছে এর কারিগরি জ্ঞানও। অথচ ঘানিভাঙা সরিষার তেলের আলাদা বাজার আছে। স্থানীয়রা বলছেন, যেসব পরিবার গরু পালন ও পরিচর্যার ঝামেলায় ঘানি চালাতে পারছে না, তাদের জন্য এমন ব্যবস্থা একটি বিকল্প হতে পারে; বাচ্চুমিয়ার ঘানি দেখতে প্রতিদিন আশপাশের গ্রামের মানুষ আসছেন, কেউ কেউ নতুন ঘানি গড়ার আগ্রহও দেখাচ্ছেন।

প্রতিবেদনে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, এ বাজার ধরে রাখতে শুধু ঐতিহ্যের গল্প যথেষ্ট নয়; সরিষার মান, উৎপাদনের পরিচ্ছন্নতা, সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ, লেবেলিং ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রযোজ্য সরকারি মান ও অনুমোদন মেনে চলাও জরুরি। প্রতিবেদনটি বার্তা২৪.কমের কুষ্টিয়ার স্টাফ করেসপন্ডেন্টের।

ছবি: Swetapadma07 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: বার্তা২৪

বার্তা২৪দা এগ্রো নিউজ

এগ্রোটেক

সম্পর্কিত খবর

এগ্রোটেক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘বিনজিপিটি’ বেছে দিচ্ছে শিমের সংকরায়ণ, দুই বছরে আসছে প্রথম জাত

কানাডার ইউনিভার্সিটি অব গুয়েলফের শিম প্রজননবিদ মোহসেন ইউসেফজাদেহ নাজাফাবাদি জানান, বছরের পর বছরের প্রজনন তথ্যে প্রশিক্ষিত এআই মডেলটি হাজার হাজার সম্ভাব্য সংকরায়ণ থেকে কয়েকশ বাছাই করে দেয়; এর সাহায্যে বাছাই করা প্রথম জাত প্রায় দুই বছরে কৃষকের হাতে পৌঁছাবে।

Manitoba Co-operator২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

খামারির বানানো এআই প্ল্যাটফর্মে মাংসের খরচের হিসাব, কথা বলা ট্রাক্টর আনছে এজিসিও

যুক্তরাষ্ট্রের র‍্যাঞ্চার ক্যারি রিচার্ডসের হার্ভেস্টপাথ প্রযুক্তি চারণভূমি থেকে দোকান পর্যন্ত মাংস উৎপাদনের প্রতিটি খরচ হিসাব করে; আর এজিসিওর অ্যাড্রিয়ান ক্রফোর্ড বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কাজে আসে তখনই, যখন তা কৃষকের আসল সমস্যা থেকে শুরু হয়।

Farm Progress২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

রাতের ক্যামেরা ও সেন্সর প্রযুক্তিতে শিয়ালের হামলা নজরে, ভেড়া বাঁচাতে নতুন উদ্ভাবন

দক্ষিণ আফ্রিকার স্টেলেনবশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মেগান লে রু-র তৈরি স্বয়ংক্রিয় সেন্সর ব্যবস্থা খামারে রাতের অন্ধকারে কালো-পিঠ শিয়ালের ভিডিও তুলে মানুষের সাহায্য ছাড়াই ইন্টারনেটে পাঠায়, যাতে মেরে ফেলার পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণে না আসা এই শিকারিকে বোঝা যায়।

ফুড ফর মজানসি২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)
গরুর বদলে অটোরিকশার যন্ত্রাংশ: রাজবাড়ীতে কাঠের ঘানিতে সরিষার তেলে নতুন প্রযুক্তি | দা এগ্রো নিউজ