পদ্মার পলিমাটির উর্বর রাজবাড়ীতে মানুষের জীবিকা বড়ভাবে মাঠের ফসলনির্ভর। কিন্তু উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বাড়ায় সেই কৃষি এখন চাপে। কৃষকদের অভিযোগ, জ্বালানি, শ্রমিকের মজুরি, সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচ, প্রায় সব খাতেই ব্যয় বেড়েছে; কোথাও কোথাও বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
কৃষকেরা জানান, ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় সেচযন্ত্র ও কৃষিযন্ত্র চালানোর খরচ বেড়েছে, আর মজুরি বাড়ায় জমি চাষ, রোপণ ও ফসল কাটার ব্যয়ও বেড়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ফসল ঘরে তোলার পর বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা।
নারী কৃষক মরিয়ম বলেন, "এবার গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ হচ্ছে... কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আমরা যখন ফসল বিক্রি করতে যাই, তখন ন্যায্য মূল্য পাই না।" কৃষকদের অভিযোগ, খরচ বাড়লেও ফসলের দাম সে অনুপাতে না বাড়ায় লাভ কমছে, কোথাও খরচও উঠছে না; এতে চাষে আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
রাজবাড়ীতে ধান, পাট, সবজি ও নানা মৌসুমি ফসলের ব্যাপক আবাদ হয়; চলতি মৌসুমেও বিস্তীর্ণ এলাকায় ধান ও আগাম সবজি লাগানো হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সার ও কীটনাশকের সরবরাহ মাঠপর্যায়ে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে এবং নির্ধারিত ডিলারের কাছ থেকে নির্ধারিত দামে কেনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, "বিগত বছরের চেয়ে এ বছর কীটনাশক পর্যাপ্ত আছে।" কেউ বিশৃঙ্খলা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। কৃষকেরা উপকরণের দাম ও মজুরি সহনীয় রাখা, সেচ ও জ্বালানি খরচ কমানো এবং মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমিয়ে ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সূত্র: নিউজজি২৪





মন্তব্য
(০)