পূর্বাভাস বলছে অস্ট্রেলিয়ায় এবার গ্রীষ্ম শুষ্ক যেতে পারে, আর ফিডলটগুলোর আঁশজাতীয় পশুখাদ্যের জোগান দুই ভাগে বিভক্ত: দক্ষিণের বড় খড় ও শস্য এলাকায় নিয়মিত বৃষ্টি, আর উত্তর নিউ সাউথ ওয়েলস ও দক্ষিণ কুইন্সল্যান্ডে টানা খরা, যেখানে অনেক ফসল ঘরে তুলতে এখনো বৃষ্টি দরকার। এ বছরের বিফএক্স সম্মেলনে বিফ সেন্ট্রালকে জানানো হয়, বেশির ভাগ ফিডলটের বছরের শেষ পর্যন্ত মজুত আছে, আগামী বছরের কেনাকাটায় যেতে তাদের আরও প্রায় এক মাস বাকি।
টুওম্বাভিত্তিক ফিড সেন্ট্রালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিম ফোর্ড আশা করছেন, ডাবোর দক্ষিণ থেকে নতুন মৌসুমের প্রচুর খড় আসবে, তবে ডিজেলের দামের সঙ্গে পরিবহন খরচ বাড়ছে। তিনি বলেন, দক্ষিণ কুইন্সল্যান্ড ও উত্তর নিউ সাউথ ওয়েলসে শীত খারাপ গেছে, আঁশজাতীয় খাদ্য কিছুটা টান, বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত পুরো গ্রীষ্ম এটা সমস্যা থাকবে। গত বছর শীতে ভিক্টোরিয়ায় খড় ফুরিয়ে গিয়েছিল, মনে করিয়ে দিয়ে তিনি সতর্ক করেন, সেখানে তিন থেকে ছয় মাস শুষ্ক গেলে মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।
ফোর্ড ক্রেতাদের যাচাই করে কেনার পরামর্শ দেন। কিছু চাষি ব্যর্থ গম বা বার্লি ফসলের খড় জমি থেকেই টনপ্রতি ৫০০ অস্ট্রেলীয় ডলারে বিক্রি করতে চাইছেন, অথচ বর্তমান ডিজেলের দামেও উত্তর ভিক্টোরিয়া থেকে এর চেয়ে অনেক কমে খড় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব বলে তিনি জানান।
সবচেয়ে টান তুলাবীজে। উত্তর নিউ সাউথ ওয়েলস ও দক্ষিণ কুইন্সল্যান্ডে শুষ্ক মৌসুমের পর তুলাবীজ দামি ও দুর্লভ হয়ে উঠেছে: সাম্প্রতিক ফিডলট বাজেটে দাম ধরা হয় টনপ্রতি ৬০০ ডলার, গত কয়েক সপ্তাহে তা ছিল প্রায় ৫৪০ ডলার। বেশির ভাগ ফিডলট বছর শেষ পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ, তবে এক পুষ্টিবিদ বলেন, দক্ষিণ ও মধ্য কুইন্সল্যান্ডের অনেক জলাধার এখনো কম থাকায় ঘাটতি চলবে বলে ব্যাপক ধারণা।
এ কারণে ডার্লিং ডাউনসের কিছু শস্যচাষি দানার বদলে ফসল কেটে সাইলেজ বা খড় বানানোর কথা ভাবছেন। সাইলেজ ইনোকুল্যান্ট সরবরাহকারী লালেমান্দের জর্ডান মিনিকন বলেন, ফসল পাকাতে যথেষ্ট আর্দ্রতা নেই, আঁশজাতীয় খাদ্য বানানোর আগ্রহ স্পষ্ট, তবে সিদ্ধান্ত এখনই নিতে হবে। তাঁর সহকর্মী নাথান লিস্টার জানান, পুষ্টিবিদেরা ফিডলট ও ব্যাকগ্রাউন্ডিং রেশনে স্বাস্থ্যসম্মত সাইলেজ রাখার পক্ষে ক্রমেই বেশি সমর্থন দিচ্ছেন, আর আরও চাষি ফিডলটের সঙ্গে চুক্তিতে তা উৎপাদন করছেন, যা তাঁদের নগদ প্রবাহে সহায়তা করে।
ছবি: Flominator / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Beef Central





মন্তব্য
(০)