দক্ষিণ আফ্রিকার পশ্চিম কেপের ক্ল্যানউইলিয়ামের কাছে আগটার-পাকহুইস এলাকার পারডেফন্টেইন খামারে বছরে বৃষ্টি হয় ১৫০ থেকে ১৮০ মিলিমিটার, গ্রীষ্মে তাপমাত্রা প্রায়ই ৪০ ডিগ্রি ছাড়ায়। সেখানে মার্টিন দে ক্লার্ক (Martin de Klerk) ডোনে মেরিনো জাতের ভেড়া পালন করেন একটি নিয়মে: প্রতিটি ভেড়াকে নিজের জায়গা অর্জন করতে হবে। ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকার হেনিং নাউডেকে তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি টাকা আনে ভালো ভেড়ি আর ভেড়া।
মানিয়ে নেওয়া ও লাভের কারণে পরিবারটি আরেকটি মাংসের জাত ছেড়ে মাংস ও উল দুটোর জন্য উপযোগী ডোনে জাতে আসে। দে ক্লার্কের আকর্ষণ ছিল জাতটির প্রজনন মান ও পরিসংখ্যানভিত্তিক বাছাই পদ্ধতি, যা দিয়ে লাভজনক বৈশিষ্ট্য মেপে বাছাই করা যায়। ২০১৫ সালে টেরা ভিনো ডোনসের জন মরিসের কাছ থেকে কেনা বয়স্ক ভেড়ি দিয়ে শুরু; কঠোর বাছাইয়ের কারণে পাল বেড়েছে ধীরে।
খামারে প্রায় ২৫০টি প্রজনন ভেড়ি আছে, যা দে ক্লার্ক সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে ধরে রাখেন, যাতে কঠোর বাছাই করেও বছরে ৪০ থেকে ৫০টি ভালো ভেড়া বিক্রি করা যায়। প্রতিস্থাপন ভেড়ি প্রথম বাছাই হয় প্রায় ১০০ দিন বয়সে, মূল বাছাই ১৬ মাসে, যখন কর্মদক্ষতার তথ্য ও উল দেখা যায়। প্রায় ২০ মাস বয়সে প্রথম প্রজনন, ৩৪ দিনের প্রজনন মৌসুমে প্রতি ভেড়ার জন্য প্রায় ৪০টি ভেড়ি; গর্ভধারণে ব্যর্থ ভেড়ি একবার সুযোগ পায়, তারপর বাদ। বাচ্চা জন্মের হার ১২০ থেকে ১৪০ শতাংশ; প্রতিবছরের কৃত্রিম প্রজননে গর্ভধারণ কিছুটা কমলেও দ্রুত জিনগত উন্নতির জন্য তিনি তা মেনে নেন। বাচ্চা দুধ ছাড়ে ১০০ দিনে, লক্ষ্য ৩৮ কেজির বেশি ওজন।
দুধ ছাড়ার পর বাচ্চারা ১২ মাসের পরীক্ষা পর্যন্ত কোনো সম্পূরক খাবার ছাড়াই প্রাকৃতিক চারণভূমিতে থাকে, যাতে দুর্বলতা ধরা পড়ে। তাঁর যুক্তি, ক্রেতা খামারিরা চারণভূমিতেই ভেড়া পালেন, তাই সেখানে টিকে থাকা ভেড়াই দরকার। তবে গর্ভের শেষ দিকে ও দুধ খাওয়ানোর শুরুতে ভেড়িদের ভালো খাবার দেওয়া হয়: নিজেদের মেশানো খাদ্য, চাষ করা ঘাস আর বাচ্চাদের আলাদা খাবার। মিজ পোকাবাহিত ব্লুটাং রোগ আর চারণভূমির পরজীবী প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকি।
ভেড়া কেনার সময় তিনি আগে সংখ্যা দেখেন, প্রথমে সামগ্রিক মান, তারপর উর্বরতা ও বৃদ্ধি, এরপর পশুটি নিজে দেখেন। তাঁর ভাষায়, এমন ভারসাম্য চাই যেখানে কোনো বৈশিষ্ট্য দুর্বল নয়। আন্তঃপ্রজনন ঠেকাতে বছরে নিজের খামারের একটি ভেড়া রাখেন, পশ্চিম কেপের অন্য খামারের সঙ্গে মিলে নতুন ভেড়া ও বীর্য কেনেন, আর হালনাগাদ তথ্যে পিছিয়ে পড়া ভেড়া বাদ দেন। আয়ের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ আসে উল থেকে, তাই এখন উলের দৈর্ঘ্য ও পরিষ্কার উলের ওজন বাড়ানোয় জোর; পছন্দ ১৮.৫ থেকে ১৯.৫ মাইক্রনের আঁশ।
আগামী দশকে ডোনে প্রজননে কোন বৈশিষ্ট্য বেশি গুরুত্ব পাবে, জানতে চাইলে তাঁর তাৎক্ষণিক উত্তর: নিশ্চিতভাবেই উর্বরতা। তাঁর লক্ষ্য এমন পাল, যার ভেড়া বাণিজ্যিক খামারিরা ভরসা নিয়ে কিনতে পারেন। তাঁর কথায়, ভালো ভেড়া আসে ভালো ভেড়ির পাল থেকেই।
ছবি: Cgoodwin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Farmers Weekly South Africa





মন্তব্য
(০)