১৯৯০-এর পর অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলের সবচেয়ে বিপর্যস্ত নদীগুলোর একটি বলা হতো কুইন্সল্যান্ডের মেরি নদীকে; তিন দশক ধরে কৃষক ও একটি সামাজিক অববাহিকা কমিটি নদীটি সারিয়ে তুলছেন, জানিয়েছে এবিসি রুরাল।
৩১০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীটি ৯,৫৯৫ বর্গকিলোমিটার অববাহিকার পানি নিয়ে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের দক্ষিণতম অংশ গ্রেট স্যান্ডি স্ট্রেইটে পড়ে। ২০২২ সালের বন্যায় পলির স্রোত সামুদ্রিক ঘাস ঢেকে দেয়; সেই পলির আনুমানিক ৬৬ শতাংশ এসেছিল নদীতীরের ক্ষয় থেকে, যাতে শত শত হেক্টর কৃষিজমি হারিয়ে যায়।
ক্যামব্রুনের দুগ্ধ খামারি পিটার ও এলকে ওয়াটসন ১৯৮০-এর দশকে গাছ লাগানো শুরু করেন, ক্ষয়প্রবণ তীর থেকে গরুকে বেড়া দিয়ে সরিয়ে নদীর বাইরে পানির পাত্র বসান, যাতে গোবর পানিতে না মেশে। মেরি রিভার ক্যাচমেন্ট কোঅর্ডিনেটিং কমিটি এখন জমির মালিকদের সঙ্গে ৮৫০টির বেশি প্রকল্পে কাজ করছে।
নতুন কৌশল ‘পাইল ফিল্ড’: ক্ষয়ে যাওয়া তীর নতুন করে গড়ে সারি সারি অশোধিত শক্ত কাঠের খুঁটি পোঁতা হয়, তারপর দেশি গাছ লাগানো হয়। সবচেয়ে খারাপ ১৬টি জায়গায় এমন পাইল ফিল্ড বসেছে; কমিটির হিসাবে এতে বছরে ২৭ হাজার টন সূক্ষ্ম পলি রিফে যাওয়া বন্ধ হচ্ছে। খামারি ভার্ন গিলবার্ট জানান, প্রতিটি বন্যায় আর তাঁর খালের তীর ভাঙছে না।
পানি সরবরাহ সংস্থা সিকওয়াটার দুগ্ধ খামারিদের সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং পুষ্টি ও পলি প্রবাহ কমানোর কর্মসূচিতে অর্থ দিচ্ছে। ওয়াটসনরা দিনে দুবার খামারের বর্জ্য সংগ্রহ করে বিশ্রামে রাখা চারণভূমিতে ছিটান, এতে সারের খরচ কমে; অপারেশনস ম্যানেজার ব্র্যাড ওয়েডলক জানান, কয়েকটি বন্যায় ভাটিতে পুষ্টির মাত্রা এক হাজার গুণ কমেছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন জেনিফার নিকোলস।
ছবি: Mattinbgn / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এবিসি রুরাল



মন্তব্য
(০)