শ্রমিকসংকট আর যন্ত্রের খরচ বাড়তে থাকায় আগাছা দমনের কাজ রোবটের হাতে তুলে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের মিয়ানডারার (Meandarra) কাছের পারিবারিক খামার কগান ফার্মস (Coggan Farms)। খামারটিতে চলছে সোয়ার্মফার্ম রোবোটিকসের (SwarmFarm Robotics) দুটি চালকবিহীন সোয়ার্মবট, যাতে আছে উইড-ইট (Weed-It) অপটিক্যাল ক্যামেরা। ক্যামেরা আগাছা শনাক্ত করে কেবল সেখানেই ওষুধ ছিটায়। ফলে পতিত জমিতে স্প্রের সময় রাসায়নিক সাধারণত প্রায় ৮৫ শতাংশ কম লাগে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত।
খামারটির আয়তন ৬৫ হাজার একরের বেশি; এর প্রায় ৩২ হাজার একরে যব, গম, ছোলা, ক্যানোলা ও সরগম চাষ হয়, পাশাপাশি আছে গরু ও ভেড়ার ফিডলট এবং চারণভূমি। প্রথম রোবটটি আসে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে, দ্বিতীয়টি ২০২২ সালে। প্রতিটিতে আছে ১৮ মিটার লম্বা বুম ও ৩ হাজার লিটারের ট্যাংক; প্রায় ৭৫ হর্সপাওয়ারের ডিজেল ইঞ্জিনে চলে, জ্বালানি লাগে ২৪ থেকে ৩০ ঘণ্টা পরপর।
২০২৫ সালে খামারে যুক্ত হয় অটোফিল (AutoFill), একটি স্বয়ংক্রিয় ডকিং স্টেশন। রোবট নিজেই সেখানে ফিরে ট্যাংক ভরে আবার কাজে চলে যায়, কোনো চালক লাগে না। ব্যবস্থাটি একাধিক রাসায়নিক মজুত, মাপা ও মেশানোর কাজ করে এবং প্রতিবার ভরার হিসাব রাখে। খামারের পঞ্চম প্রজন্মের সদস্য টম কগান বলেন, এতে রোবট প্রায় মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই ট্যাংক ভরে কাজে ফিরতে পারে।
আগে আগাছা দমন হতো চালকচালিত ট্রাক্টরে লাগানো ক্যামেরা-স্প্রেয়ার দিয়ে। কগান জানান, শুরুতে দৈনন্দিন কাজে প্রযুক্তিটি মানিয়ে নিতে কিছুটা শিখতে হয়েছে, তবে কর্মীরা অভ্যস্ত হওয়ার পর চালানো সহজ হয়ে যায়। তাঁর মতে বড় সুবিধা ধারাবাহিকতা: দিনের যেকোনো সময়ে, ক্লান্তি ছাড়াই রোবট একই নির্ভুলতায় কাজ করে, আর লোক না বাড়িয়েই স্প্রের সক্ষমতা বাড়ানো যায়।
বিনিয়োগ অবশ্য বড়। সোয়ার্মফার্ম রোবোটিকসের হিসাবে একটি সোয়ার্মবটের দাম প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার, অটোফিলের প্রায় ৮০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, রাসায়নিক, জ্বালানি ও শ্রমের সাশ্রয়ে কিছু গ্রাহক ১২ থেকে ১৮ মাসে খরচ তুলে নেন, যদিও তা যন্ত্রের ব্যবহার ও উপকরণের দামের ওপর নির্ভর করে।
ছবি: Cgoodwin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: Future Farming





মন্তব্য
(০)