রাজধানীর মাতুয়াইলের তুষারধারায় প্রতিষ্ঠিত জামিয়া কাশিফুল উলুম ঢাকা কওমি মাদ্রাসা হলেও এখানে কোরআন-হাদিস ও দরসে নেজামির সঙ্গে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সাধারণ শিক্ষা পড়ানো হয়। দেশ রূপান্তরের হাসান আল মামুনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিষ্ঠাতা লেখক, গবেষক ও শিক্ষা সংস্কারক মাওলানা সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ এর ভাবনা তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন কওমি সিলেবাস নিয়ে কাজ করে তাঁর মনে হয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনা অনেক বড়, তা কাজে লাগাতে শিক্ষার পরিসর বাড়ানো দরকার। তাঁর মতে, এটি নতুন আবিষ্কার নয়; দরসে নেজামির মূল উদ্দেশ্যই ছিল শিক্ষার্থীকে যুক্তিবিদ্যা, দর্শন, গণিত ও ইলমুত তিব্ব বা চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ বিস্তৃত জ্ঞানের সঙ্গে পরিচিত করা। সময়ের সঙ্গে সেই পরিসর সংকুচিত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি পাকিস্তানের দারুল উলুম করাচি এবং ভারতের দারুল উলুম নদওয়াতুল ওলামার কথা বলেন।
ইসলামের সোনালি যুগে আলেম আর বিজ্ঞানীকে আলাদা করে দেখা হতো না বলে মনে করিয়ে দেন তিনি। তাঁর কথায়, উদ্দেশ্য দ্বীনি শিক্ষা কমানো নয়, বরং এর ভিত আরও মজবুত করে প্রয়োজনীয় জ্ঞান-বিজ্ঞান যোগ করা এবং আমল-আখলাকের পরিবেশ ধরে রাখা।
প্রতিষ্ঠানটির স্কুল ও কলেজ বিভাগ রয়েছে; শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি দিচ্ছে এবং চলতি বছর সবাই পাস করেছে বলে জানান তিনি। একজন শিক্ষার্থী হিফজ শেষ করে আলেম হওয়ার পর এখন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ছেন।
আগামী ১০ বছরের লক্ষ্য হিসেবে তিনি চান, শিক্ষার্থীরা মসজিদ-মাদ্রাসার খেদমতের পাশাপাশি কেউ আলেম ও চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী, প্রশাসক, গবেষক, উদ্যোক্তা বা প্রযুক্তিবিদ হোক। তাঁর স্বপ্ন, একদিন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দেবেন আলেমরা।
ছবি: Haque05 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর




মন্তব্য
(০)