জ্বর হলেই সাধারণত সংক্রমণ বা শারীরিক অসুস্থতার কথা মনে আসে। কিন্তু ডেইলি বাংলাদেশে ডা. এম আর করিম রেজা লিখেছেন, সব জ্বরের পেছনে সংক্রমণ থাকে না; তীব্র মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অস্থিরতার সঙ্গেও শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে সাইকোজেনিক ফিভার বা মানসিক চাপজনিত জ্বর বলা হয়।
তাঁর ব্যাখ্যায়, তীব্র চাপের সময় শরীরের ‘স্ট্রেস রেসপন্স’ সক্রিয় হয়; অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসলের মতো হরমোনের পরিবর্তন আর স্নায়ুতন্ত্রের বাড়তি কার্যকলাপ শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে। দীর্ঘ উদ্বেগ, পরীক্ষা বা চাকরির চাপ, পারিবারিক সমস্যা, সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা কোনো তীব্র মানসিক ঘটনার পর এমন হতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্কের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সাধারণত ৯৭ থেকে ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট, আর ১০০ দশমিক ৪ ডিগ্রি বা তার বেশি হলে জ্বর ধরা হয়। সাধারণ জ্বর হয় সংক্রমণ বা প্রদাহে, তাতে প্যারাসিটামল বা প্রদাহবিরোধী ওষুধ কাজ করে। লেখকের মতে, সাইকোজেনিক ফিভারে কখনো তীব্র দুশ্চিন্তায় তাপমাত্রা হঠাৎ ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে, আবার কারও দীর্ঘদিন ১০০ ডিগ্রির কাছাকাছি মৃদু জ্বর থাকে; এতে সাধারণ জ্বর কমানোর ওষুধ তেমন কার্যকর হয় না।
মানসিক চাপ কমাতে তিনি পুষ্টিকর খাবার, প্রতি রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম, বই পড়া, গান শোনা বা প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটানো, নিয়মিত যোগব্যায়াম, ধ্যান, দীর্ঘ শ্বাস-প্রশ্বাস ও পেশি শিথিল করার ব্যায়ামের পরামর্শ দিয়েছেন। মানসিক চাপ ঘুম, হৃদ্স্পন্দন, হজম, ঘাম ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মতো শারীরিক প্রক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলে বলে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন।
ছবি: Menchi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ




মন্তব্য
(০)