মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্যের গুণমান, নিরাপত্তা ও ভেজাল দ্রুত শনাক্তে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) দুটি আধুনিক গবেষণাগার চালু হয়েছে। ফ্লুরোসেন্স ফিঙ্গারপ্রিন্টিং ও কেমোমেট্রিকস প্রযুক্তিতে এখানে অল্প সময়ে নমুনা বিশ্লেষণ করা হবে।
সমস্যাটি হলো, প্রচলিত পদ্ধতিতে সামুদ্রিক ও জলজ খাদ্যের মান নির্ণয় এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তে নমুনা প্রস্তুতিসহ অনেক ধাপে সময় ও শ্রম লাগে; মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তে এক থেকে দুই সপ্তাহও লেগে যেতে পারে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ফিঙ্গারপ্রিন্টিংভিত্তিক প্রযুক্তিতে কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটে নমুনার রাসায়নিক ও ভৌত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ সম্ভব, আর সরল নমুনা প্রস্তুতিতে ভেজালও শনাক্ত করা যাবে।
নবনির্মিত 'অ্যাডভান্সড অ্যানালিটিক্যাল ল্যাবরেটরি'তে ফ্লুরোসেন্স ফিঙ্গারপ্রিন্টিং যন্ত্র ও ফোরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপিসহ (এফটিআইআর) প্রায় ১৫ ধরনের যন্ত্রপাতি রয়েছে। এতে মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্যের সতেজতা, গুণমান, রাসায়নিক পরিবর্তন ও আসলত্ব দ্রুত মূল্যায়ন করা যাবে। মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের 'সিফুড প্রসেসিং, কোয়ালিটি অ্যান্ড সেফটি ল্যাবরেটরি'র একাংশও সংস্কার করে আধুনিক করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) গবেষণাগার দুটি উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান। বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের যৌথ অর্থায়নের হিট উপপ্রকল্পে ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে গবেষণাটি চলছে; লক্ষ্য সামুদ্রিক খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা বিশ্লেষণের দ্রুত, নমুনা অক্ষত রাখা ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি তৈরি।
অনুষ্ঠানে প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম সাইফুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। অতিথিরা গবেষণাগার ঘুরে দেখেন, আর অধ্যাপক মিজানুর রহমান যন্ত্রপাতির ব্যবহার, নমুনা প্রস্তুত ও বিশ্লেষণের পদ্ধতি তুলে ধরেন।
উপকূলের মৎস্যজীবী, প্রক্রিয়াজাতকারী ও রপ্তানিকারকদের জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য মান যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হলে মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের। প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন দেশ রূপান্তরের দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)