রাত ১২টায়ও অফিসের কাজ শেষ হয় না, সন্তান কখন ঘুমিয়ে পড়ে খেয়াল থাকে না, পরিবারের সঙ্গে দুটি কথাও হয় না। প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের খণ্ডকালীন শিক্ষক মুহাম্মাদ মুহসিন মাশকুর লিখেছেন, এ সমস্যার সমাধান আছে নবীজির (সা.) জীবনে।
লেখক এক গবেষণার বরাতে বলেন, কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের সমন্বয় না থাকলে মানুষ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে; আর যাঁরা কাজ ও পরিবারের সময় আলাদা রাখতে পারেন, তাঁদের মানসিক সুস্থতা তুলনামূলক ভালো থাকে। আসল প্রশ্ন কতক্ষণ কাজ করছেন তা নয়, কাজটি মন থেকে করছেন কি না।
আল্লাহ সুরা আসরে সময়ের শপথ করে বলেছেন, মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, দুটি নেয়ামতের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: সুস্থতা ও অবসর (সহিহ বুখারি, ৬৪১২)। সাহাবি সালমান ফারসি (রা.) আবু দারদাকে (রা.) বলেছিলেন, 'তোমার প্রতিপালকের হক আছে তোমার ওপর, তোমার নিজের হক আছে, তোমার পরিবারের হকও আছে। প্রতিটি হকদারকে তার হক দাও।' নবীজি বলেন, সালমান সত্যি বলেছে (সহিহ বুখারি, ১৯৬৮)।
নবীজি (সা.) ২৩ বছরে একটি জাতির চিন্তা ও রাষ্ট্রব্যবস্থা বদলে দিয়েছেন, অথচ তাঁর দিনও ছিল ২৪ ঘণ্টার। আয়েশা (রা.) বলেছেন, তিনি নিজের জামা সেলাই করতেন, ছাগলের দুধ দোহাতেন, জুতা মেরামত করতেন (মুসনাদে আহমাদ)। তিনি দোয়া করেছেন, 'হে আল্লাহ, আমার উম্মতের সকালবেলায় বরকত দাও' (আবু দাউদ, ২৬০৬), এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ ভোরেই শুরু করতেন।
লেখকের পরামর্শ: রাতে পরদিনের কাজের তালিকা করে সকালে সবচেয়ে জরুরি কাজটি আগে করা; অফিসের কাজ বাসায় না আনা; নামাজের ওয়াক্তকে দিনের স্বাভাবিক বিরতি বানানো; অপ্রয়োজনীয় কাজে 'না' বলা, যেমন নবীজি সাহাবিদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দিতেন; আর ঘুমানোর আগে দিনের হিসাব নেওয়া।
তাঁর উপসংহার, পার্থক্যটা সময়ের পরিমাণে নয়, সময় ব্যবহারের পদ্ধতিতে: অফিসে পূর্ণ মনোযোগ, বাসায় পরিবারকে একনিষ্ঠ সময়, আর দিনের শুরুতে সময়ে বরকতের দোয়া।
ছবি: Ehsanul Siddiq Aranya / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)