ভালো কাজের প্রশংসা পেলে আনন্দ হওয়াই স্বাভাবিক, কিন্তু সেই প্রশংসা কখনো কখনো আত্মতুষ্টি ও অহংকারের কারণ হয়ে ওঠে। ডেইলি বাংলাদেশের ধর্ম বিভাগের একটি লেখায় কোরআন-হাদিসের আলোকে বলা হয়েছে, প্রশংসা ভালো কাজের অনুপ্রেরণা হলে তা ইতিবাচক, কিন্তু নিজেকে অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ভাবতে শুরু করলে তা বিপদের।
সুরা নাজমের ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, তোমরা নিজেদের পবিত্র বলে দাবি করো না, কে তাকওয়াবান তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন। লেখায় বলা হয়েছে, মানুষ নিজের বাহ্যিক আমল জানলেও অন্তরের অবস্থা বা আমল কবুল হয়েছে কি না জানে না, তাই অন্যের প্রশংসায় নিজেকে নিশ্চিতভাবে ভালো মানুষ ভাবা উচিত নয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) অতিরিক্ত প্রশংসা করতেও সতর্ক করেছেন। সহিহ মুসলিমের (৩০০২) বর্ণনায় এক ব্যক্তি হজরত উসমান (রা.)-এর অতিরিক্ত প্রশংসা করলে হজরত মিকদাদ (রা.) তার দিকে কঙ্কর ছুড়ে রাসুলের নির্দেশের কথা মনে করিয়ে দেন। সহিহ বুখারির (৬০৬০) আরেক বর্ণনায় তিনি অতিরিক্ত প্রশংসাকে বলেছেন, ‘তোমরা তো লোকটির মেরুদণ্ড ভেঙে দিলে।’
লেখায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, প্রশংসা শুনলে মনে রাখতে হবে যে জ্ঞান, সামর্থ্য ও ভালো কাজের তাওফিক সবই আল্লাহর দান; সুরা নাহলের ৫৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, তোমাদের কাছে যে নিয়ামত আছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই। নিজের এমন দুর্বলতার কথা স্মরণ করা, যা অন্যরা জানে না, এবং নিজের ভালো কাজ মানুষের সামনে তুলে না ধরাও আত্মতুষ্টি থেকে বাঁচার উপায় (সুরা নিসা, আয়াত ৪৯)।
প্রশংসার সময় সালাফদের থেকে বর্ণিত একটি দোয়াও উল্লেখ করা হয়েছে, যার অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তারা আমার সম্পর্কে যা বলে, সে কারণে আমাকে পাকড়াও করবেন না; তারা আমার যা জানে না তা ক্ষমা করুন এবং তারা আমাকে যেমন মনে করে, তার চেয়ে উত্তম করে দিন।’
ছবি: Metropolitan Museum of Art / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ





মন্তব্য
(০)