ফিড তৈরির প্রায় সব প্রধান উপাদানের দাম এক মাসের ব্যবধানে বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন দেশের পোলট্রি খামারিরা। দিনাজপুর সদর উপজেলার পাঁচবাড়ির খামারি মো. মোমিনুল ইসলাম আগে প্রতি মাসে ব্রয়লারের জন্য ৭০ বস্তা খাবার কিনতেন; দুই দফা দাম বাড়ার পর এখন দিচ্ছেন ৬০ বস্তা। এতে মুরগির কাঙ্ক্ষিত ওজন আসছে না, বাজারে ভালো দামও মিলছে না।
খাতসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, ১৩ শতাংশ আর্দ্রতার ভুট্টা এখন কেজিপ্রতি ৩৮ টাকা ৮০ পয়সা, এক মাস আগে ছিল ৩১ টাকা ৩০ পয়সা। ডি-অয়েলড রাইস ব্রান (ডিওআরবি) ২৬ টাকা থেকে ৩৩ টাকা, ১৬ শতাংশ তেলযুক্ত চালের কুঁড়া ৩৩ থেকে ৩৯ টাকা, সরিষার খৈল ৩৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৩৯ টাকা ৭০ পয়সা এবং সয়াবিন মিল ৫৮ থেকে ৬৬ টাকায় উঠেছে। মার্চ-মে মৌসুমে ভুট্টা ২৮-২৯ টাকায় পাওয়া গেলেও জুন-আগস্টে তা ৩৮-৪০ টাকায় পৌঁছায়; আন্তর্জাতিক বাজারে টনপ্রতি দাম ২৩৫-২৪০ ডলার থেকে প্রায় ২৯০ ডলারে উঠেছে।
ফিড মিলের মোট খরচের প্রায় ৮০ ভাগই যায় কাঁচামাল কেনায়। তাই ভুট্টা, সয়াবিন মিল, রাইস ব্রান বা ডিওআরবির দাম বাড়লে কিংবা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে ফিডের দাম বাড়ে। ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামা এবং গ্যাস-বিদ্যুতের দামের প্রভাবও পড়ছে। ফিডের দামের সঙ্গে বাড়ছে পোলট্রি, মাছ ও গবাদিপশু উৎপাদনের খরচ।
বগুড়া সদরের খামারি হাফিজুর রহমান জানান, এক সপ্তাহে বিভিন্ন প্রাণিখাদ্যের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে; ৫০ কেজির বস্তায় ফিড বেড়েছে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা এবং বস্তার দাম উঠেছে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৭৫ টাকা। ৫০ কেজির এক বস্তা ব্রান ১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা হয়েছে। গাজীপুরের কাপাসিয়ার প্রাণিখাদ্য বিক্রেতা সলিম উল্যাহ বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটে ফিড উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে এবং দাম বাড়ায় ক্রেতারা কম কিনছেন।
ওষুধ, ভ্যাকসিন ও পরিচালন ব্যয়ও কয়েক মাসে বেড়েছে, অথচ ডিম ও মুরগির দাম সব সময় সে অনুপাতে বাড়েনি। লোকসান গুনতে গুনতে অনেক খামারি উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন, কেউ ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন। জুন থেকে সেপ্টেম্বরে রাজশাহী, গাজীপুর, পাবনা, কিশোরগঞ্জ, কুমিল্লা, নরসিংদী, ঢাকা, কুষ্টিয়া ও ময়মনসিংহে খামারিরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও স্মারকলিপির মাধ্যমে ফিডের দাম ও কাঁচামাল আমদানির শুল্ক কমানো এবং ডিম-মুরগির ন্যায্যমূল্যের দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ প্রান্তিক পোলট্রি খামারি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান বলেন, দেশে উৎপাদিত ডিওআরবি ও রাইস ব্রানের সরবরাহ আগে দেশের চাহিদা অনুযায়ী নিশ্চিত করা দরকার; প্রয়োজনে এগুলোর রপ্তানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বা কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যেতে পারে। তাঁর মতে, আমদানি করা কাঁচামালে ভ্যাট, কর ও শুল্ক কমানো এবং কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে নজরদারি বাড়ালে খামারির খরচ কমবে, ডিম-মুরগির দামও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
প্রতিবেদনটি দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদকের।
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)