তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে নীলফামারীর হিমাগার মালিক ও আলুচাষিরা বিপাকে পড়েছেন। বিদ্যুৎ গেলে জেনারেটর চালিয়ে হিমাগার সচল রাখার চেষ্টা হলেও নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ধরে রাখা যাচ্ছে না। জেলার ১১টি হিমাগারে সংরক্ষিত প্রায় ৭৭ হাজার টন আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার টন বীজ আলু। এই বীজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগামী মৌসুমে চাষাবাদে বড় সংকট দেখা দিতে পারে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যে নীলফামারীতে প্রতিদিন চাহিদা প্রায় ১৫৩ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ মিলছে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। ঘাটতির কারণে জেলায় লোডশেডিং বেড়েছে। সৈয়দপুরের নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) আবাসিক প্রকৌশলী মো. আলিমুল ইসলাম সেলিম জানান, চাহিদামতো বিদ্যুৎ না মেলায় কারখানা ও হিমাগারে প্রয়োজনীয় সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না; ভারসাম্য আনার চেষ্টা চলছে।
হিমাগার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শীতলকরণ যন্ত্র নির্দিষ্ট সময় ধরে টানা চালাতে হয়; মাঝপথে বিদ্যুৎ গেলে পুরো প্রক্রিয়া আবার শুরু থেকে করতে হয়। শাওন হিমাগারের ব্যবস্থাপক নাহিদ হাসান জনির ভাষ্য, এতে বাড়তি বিদ্যুৎ ও শ্রম খরচ হচ্ছে, আর দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালিয়ে সেই ব্যয় সামলানো কঠিন। উত্তরা হিমাগারের ব্যবস্থাপক দীপু রায়ের হিসাবে, একটি কক্ষ ঠান্ডা করতে এক ঘণ্টা লাগলে ৩০ মিনিট পর বিদ্যুৎ গেলে আবার শুরু থেকে করতে হয়।
সৈয়দপুরের বোতলাগাড়ীর কৃষক সোলেমান আলী আগামী মৌসুমের রোপণের জন্য হিমাগারে বীজ আলু রেখেছেন। তাঁর কথায়, বীজ নষ্ট হলে পরের বছর ভালো ফলন পাওয়া কঠিন হবে; তাই হিমাগারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চান তিনি। এক ব্যবসায়ী জানান, দিনের বড় অংশে বিদ্যুৎ থাকে না, জেনারেটরে সব যন্ত্র একসঙ্গে চালানোও সম্ভব হয় না—আলু নষ্ট হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কৃষকেরই।
সৈয়দপুরের ঈসমাইল বীজ হিমাগার, সাজেদা ও নর্দান কোল্ড স্টোরেজে এলাকার ও বাইরের কৃষক ও পাইকারেরা বীজ ও বিক্রির আলু রেখেছেন। ঘন লোডশেডিং ও গরমে সেগুলোও ঝুঁকিতে। হিমাগার-নির্ভর বীজ আলুর এই সংকট শুধু নীলফামারীর নয়—উত্তরের আলু উৎপাদক জেলাগুলোতে আগামী রবি মৌসুমের বীজের জোগানের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
ইত্তেফাকের সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা মো. আমিরুজ্জামানের প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: ইত্তেফাক





মন্তব্য
(০)