বৈরী আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ নিয়েই দক্ষিণ উপকূলের জেলা পটুয়াখালীর কৃষকেরা এবার আমনে নতুন আশা দেখছেন। কয়েক দফা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় বীজতলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলেও এখন মাঠে চারা রোপণ জোরেশোরে এগোচ্ছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে জেলায় এবার আমনের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর; আবহাওয়া অনুকূল থাকলে তা পুরোপুরি অর্জন এমনকি ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।
জুলাই ও আগস্টে নিম্নচাপ, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে আমনের বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষতি হয়; জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ১৭০ হেক্টর বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে বেশির ভাগ এলাকায় কৃষক বিকল্প বীজতলায় কাজ চালিয়ে যাওয়ায় প্রাথমিক শঙ্কা অনেকটাই কেটেছে।
বাউফলের নাজিরপুর ইউনিয়নের কৃষক বেল্লাল মিরা (৬৫) বাসসকে বলেন, গত বছর বীজতলা আশানুরূপ না হওয়ায় ৬০ কাঠায় আমন লাগিয়েছিলেন, এবার ৮০ কাঠায়। কনকদিয়া ও নাজিরপুরের জয়নাল মিরা, জাকির মোল্লা ও কুদ্দুছ মোল্লার কথায়, বীজতলায় খরচ কম লাগায় গত বছরের চেয়ে বেশি জমিতে রোপণ করেছেন; সার দেওয়ার আগেই চারা কালো-ঘন হয়ে বেড়ে উঠছে। দশমিনার শাহ আলম হাওলাদার ও মির্জাগঞ্জের জাকির হোসেনও ভালো ফলনের আশায়।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, উপকূলীয় পটুয়াখালীর কৃষি আবহাওয়ার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত—অতিবৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস, নিম্নচাপ ও জোয়ার প্রতিবছরই চ্যালেঞ্জ তৈরি করে; তবে উন্নত জাতের বীজ, সময়মতো বীজতলা, দ্রুত রোপণ ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ছে। সব ঠিক থাকলে এবার আগের উৎপাদনের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা তাঁদের।
বাসসের পটুয়াখালী বিশেষ প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)