হিমাগারে আলু সংরক্ষণের সর্বোচ্চ ভাড়া কেজিপ্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ৬ টাকা নির্ধারণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রায় দেড় বছর আগে, ২০২৫ সালের ৩ মার্চ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর আগের হার ঠিক করেছিল। নতুন হার ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন।
গত ৩০ আগস্ট কৃষিসচিব সেলিম খানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়; সেখানে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন এবং বিভিন্ন অঞ্চলের আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরা ছিলেন। পরদিন ৩১ আগস্ট অধিদপ্তর বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নতুন সীমা জানায়।
কৃষিসচিব সেলিম খান জানান, যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণে ২৫ জেলার জেলা প্রশাসকদের নিয়ে গঠিত কমিটি কেজিপ্রতি ৫ টাকা ৫০ পয়সা সুপারিশ করেছিল; কৃষকদের বুঝিয়ে ৬ টাকা ঠিক করা হয়েছে। হিমাগার মালিকেরা প্রথমে ৬ টাকা ৩৮ পয়সা, পরে ৬ টাকা ১০ পয়সা দাবি করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, কৃষকেরা এখন লোকসান দিয়ে আলু বিক্রি করছেন।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত আবেদনে বলা হয়েছে, হিমাগারগুলোতে এখন ২৩ লাখ টনের বেশি আলু সংরক্ষিত আছে; কেজিতে ৭৫ পয়সা কমায় মালিকদের আয় কমবে প্রায় ১৭২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ফলে ব্যাংকঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে সমস্যা হবে এবং অনেক হিমাগার বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সংগঠনটির দাবি, ১ জুন বিদ্যুতের বাণিজ্যিক হার ১৮ শতাংশ বাড়ার পর ৮ জুন তারা ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছিল, কিন্তু মন্ত্রণালয় তা আমলে নেয়নি। ৬ সেপ্টেম্বর অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের কাছে আলাদা আবেদন করেছে অ্যাসোসিয়েশন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, আবেদন দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
চাষিদের বক্তব্য ভিন্ন। মুন্সিগঞ্জ জেলা আলু চাষি সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জানান, নির্ধারিত দর ৬ টাকা ৭৫ পয়সা থাকলেও মুন্সিগঞ্জের ৬২টি হিমাগার বাস্তবে ৫ টাকা ৫০ পয়সা দরেই আলু রাখছিল, তাই ১৭২ কোটি টাকা লোকসানের হিসাবে গরমিল আছে। তাঁর জানামতে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের খরচ ২ টাকা ৫০ পয়সার বেশি নয়। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষক ১৪–১৫ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি করলেও খুচরা বাজারে তা ২৫–৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ১ কোটি ১৫ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে, যেখানে বার্ষিক চাহিদা ৮৫ থেকে ৯০ লাখ টন। উদ্বৃত্তের একাংশ রপ্তানি করা গেলে বাজারের চাপ কমবে এবং কৃষক ভালো দাম পাবেন বলে ব্যবসায়ীরা সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। হংকংয়ে ১১তম বেল্ট অ্যান্ড রোড সামিটে বৃহস্পতিবার বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে আলু ও পেঁয়াজ আমদানিতে আগ্রহ জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার বাণিজ্য ও খাদ্যনিরাপত্তামন্ত্রী ওয়াসান্থা সামারাসিংহে; শিগগির সম্ভাবনা যাচাইয়ে শ্রীলঙ্কায় বাণিজ্য প্রতিনিধিদল পাঠাবে বাংলাদেশ।
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)