মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় বিক্রি হওয়া সাতটি কোম্পানির প্যাকেটজাত সারে ভেজাল পাওয়া গেছে সরকারি পরীক্ষায়। কৃষি বিভাগ কোম্পানি ও ডিলারদের এসব পণ্য অবিলম্বে বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর উপজেলার ১০টি কীটনাশকের দোকান—চর তিল্লীর মেসার্স আলমগীর ট্রেডার্স, চর সাটুরিয়ার মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ, বালিয়াটি বাজারের আরিফ এন্টারপ্রাইজ, পুলক ট্রেডার্সসহ—থেকে ১৬টি নমুনা সংগ্রহ করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। গত ৮ সেপ্টেম্বর ফলাফল হাতে পায় কৃষি বিভাগ।
ভেজাল প্রমাণিত পণ্যগুলো হলো ব্যাবিলন এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি লিমিটেডের ব্যাবিলন বোরন, ব্যাবিলন এগ্রিসাইন্স লিমিটেডের ব্যাবিলন জিংক, নিড এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নিড সলুবোর, এগ্রো মাইন (প্রা.) লিমিটেডের সলিড জিংক মনো, হোসেন এন্টারপ্রাইজ সি.সি লিমিটেডের বিজয় জিংক সালফেট মনোহাইড্রেট, ভেলকো এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের মনো জিংক এবং গ্রীন বাংলা এগ্রোভেট লিমিটেডের জিবি জিংক।
উপজেলা কৃষি অফিসার তানিয়া তাবাসুম বলেন, সাতটি কোম্পানির পণ্যের কার্যকারিতা সরকারি নির্দেশনার চেয়ে কম পাওয়ায় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১৭(২)(ঘ) উপধারা অনুযায়ী সেগুলো ভেজাল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে; এ ধরনের সার মজুত বা কেনাবেচা দণ্ডনীয় অপরাধ। কৃষি বিভাগের হিসাবে জেলার কৃষিপ্রধান এই উপজেলার ৩৭ হাজারের বেশি কৃষক ভেজাল সার ও কীটনাশক কোম্পানির প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
সরেজমিন অনুসন্ধানে কৃষকরা অভিযোগ করেন, পরামর্শ চাইলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা (ব্লক সুপারভাইজার) নির্দিষ্ট দোকানে পাঠান, আর দোকানিরা প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির বদলে নিম্নমানের সার ধরিয়ে দেন। কামতার সবজিচাষি রশিদ বলেন, গত বছর কিছু প্যাকেটজাত সার ব্যবহার করে তার ক্ষেতের যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। ধানকোড়া ইউনিয়নের ব্লক সুপারভাইজার আবুল কালাম আজাদ ও নাজমুল কামাল অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
কোম্পানিগুলোর বক্তব্যও এসেছে। গ্রীন বাংলা এগ্রোভেটের মার্কেটিং অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, কৃষকদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বাজার থেকে পণ্য প্রত্যাহারের কোনো চিঠি তারা পাননি; দীর্ঘ মজুতে জিংকের মাত্রা কিছুটা কমতে পারে। নিড এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং অফিসার জয়নাল আবেদীনের দাবি, পরিবহন বা প্যাকেজিংয়ে সামান্য ঘাটতি হতে পারে, তবে সিসা ও ক্যাডমিয়াম সহনীয় মাত্রার নিচে থাকায় পণ্য নিরাপদ।
সাটুরিয়ার ইউএনও কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, কৃষকের স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে; কোনো ডিলার ভেজাল সার ও প্রতারণায় জড়িত থাকলে ছাড় দেওয়া হবে না। সবজি ও আলুর এই অঞ্চলে অণুপুষ্টি সারের মান নিয়ে এই ফলাফল কৃষকদের কেনাকাটায় সতর্ক হওয়ার বার্তা দিচ্ছে।
সূত্র: বাংলানিউজ২৪





মন্তব্য
(০)